বাড়ি দেশ অ্যাডহক শিক্ষকদের গণ-অবস্থান, বল প্রয়োগ করে তুলল পুলিশ, ঘেরাও থানা

অ্যাডহক শিক্ষকদের গণ-অবস্থান, বল প্রয়োগ করে তুলল পুলিশ, ঘেরাও থানা

29
0

আগরতলা, ১৭ মার্চ : ত্রিপুরায় অ্যাডহক শিক্ষকদের গণ-অবস্থান থেকে তুলতে পুলিশের বল প্রয়োগ করতে হয়েছে। ১৪৪ ধারা সত্ত্বেও গণ-অবস্থান জারি রাখায় কয়েকজন অ্যাডহক শিক্ষককে আজ পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এরই প্রতিবাদে অ্যাডহক শিক্ষক সংগঠনের অন্য সদস্যরা পশ্চিম আগরতলা থানা ঘেরাও করেন। শুধু তা-ই নয়, খালি থালা হাতে তাঁরা প্রতিবাদও দেখান। শেষে গণ-অবস্থান আন্দোলন প্রত্যাহারের শর্তে পুলিশ আটক অ্যাডহক শিক্ষকদের মুক্তি দিয়েছে। সোমবারের ঘটনায় দীর্ঘ সময় আগরতলার পোস্ট অফিস চৌমুহনি এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। 

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা এদিন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। সাথে তাঁরা আগামীদিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে, অ্যাডহক শিক্ষকদের অপর একটি সংগঠন আমরা ১০৩২৩-কেও আজ লাগাতর গণ-অবস্থান করতে দেয়নি পুলিশ। তাঁরাও ত্রিপুরা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার প্রকাশ করেছেন। 
প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ মার্চ অ্যাডহক শিক্ষকরা স্থায়ীভাবে চাকরি হারাচ্ছেন। এদিকে, করোনা ভাইরাসের সতর্কতা হিসেবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, বড় জমায়েত এড়ানোর জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে আগরতলায়। অ্যাডহক শিক্ষকরা চারদিন ধরে আগরতলায় প্যারাডাইস চৌমুহনিতে গণ-অবস্থান পালন করছেন। মূলত, চাকরির নিশ্চিয়তার দাবিতেই তাঁরা গণ-অবস্থানে বসেছেন এবং ওই আন্দোলন অনির্দিষ্টকাল জারি থাকবে বলে ঘোষণা করেছিলেন। 
গতকাল সন্ধ্যায় আগরতলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রাতেই তাঁদের গণ-অবস্থান প্রত্যাহারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু, তাঁরা পুলিশের অনুরোধ রাখেননি। ফলে, আজ সকালে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের গ্রেফতার করে এবং তাদের পুলিশ লাইনে নিয়ে যায়। পুলিশের এই অভিযানে ছিলেন পশ্চিম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরবান এবং ডিসিএম আশিস বিশ্বাস। 
পশ্চিমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরবান বলেন, অ্যাডহক শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য গতকাল রাত থেকেই অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু তাঁরা শুনেননি। তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া ওই শিক্ষকরা গণ-অবস্থান করছিলেন। তাছাড়া, এখন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ফলে, এ ধরনের আন্দোলনের কোনওভাবেই অনুমতি দেওয়া যায় না। তাই, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কথায়, শিক্ষকদের গণ-অবস্থান মঞ্চও ভেঙে ফেলা হবে। সদর ডিসিএম-এর অনুমতিতে ওই গণ-অবস্থান মঞ্চ ভাঙবে পুলিশ। এদিন তিনি জানান, প্রায় ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
সহকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন অ্যাডহক শিক্ষক সংগঠনের অন্য সদস্যরা। সংগঠনের সভাপতি বিমল সাহা বলেন, বলপূর্বক শিক্ষকদের গ্রেফতার করে আন্দোলন থামাতে পারবে না রাজ্য সরকার। তাঁর কটাক্ষ, করোনা ভাইরাসের অজুহাতে অ্যাডহক শিক্ষকদের আন্দোলন ভেস্তে দেওয়ার জন্যই সরকারের এই কৌশলি চাল। কিন্তু, কৌশল করে আন্দোলন থামানো যায় না। এখন আমরা আইন অমান্য আন্দোলনে নামব, সুর চড়িয়ে বলেন তিনি। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। 
শিক্ষক সংগঠনের অপর এক সদস্য বিজয় কৃষ্ণ বলেন, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে শিক্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাই, আমরা আজ আইন অমান্য আন্দোলনে নামছি। তাঁর অভিযোগ, করোনা ভাইরাসের অজুহাতে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে দুরভিসন্ধি রয়েছে। শুধুমাত্র শিক্ষকদের আন্দোলন রোখার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তাঁর দাবি, গ্রেফতার শিক্ষকদের নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। তা না-হলে থানা ঘেরাও করব আমরা। 
এদিন অ্যাডহক শিক্ষকরা পশ্চিম আগরতলা থানা ঘেরাও করেন। সহকর্মীদের মুক্তির দাবিতে তাঁরা থানা চত্বরে রাস্তায় শুয়ে পড়েন। শুধু তা-ই নয়, খালি থালা হাতেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তাঁরা। তাঁদের সাফ কথা, চাকরির সুনিশ্চয়তা দেওয়া না হলে আন্দোলন থামবে না। 
এদিকে, অ্যাডহক শিক্ষকদের থানা ঘেরাওয়ের ফলে পোস্ট অফিস চৌমুহনি এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘক্ষণ থানা ঘেরাওয়ের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের শর্তে পুলিশ গ্রেফতার শিক্ষকদের মুক্তি দেয়। তবে, আলোচনাক্রমে খুব শীঘ্রই আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা, জানালেন বিমল সাহা। 
অন্যদিকে আজ থানা ঘেরাও চলাকালীন প্রচণ্ড গরমে কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের জিবি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। 
এদিকে, প্যারাডাইস চৌমুহনিতে অ্যাডহক শিক্ষকদের অপর সংগঠনকে গণ-অবস্থান করতে দেওয়া হয়নি। তাঁরা কিছুক্ষণ ভাষণ দিয়ে ফিরে যান। তবে, সমস্যা এখানেই সমাপ্ত হচ্ছে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। 

Loading...