বাড়ি সম্পাদকীয় অমিত শাহ ধরিত্রীপুত্রকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী করার ইচ্ছা

অমিত শাহ ধরিত্রীপুত্রকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী করার ইচ্ছা

44
0

রবীন্দ্রকুমার শীল
মেদিনীপুরে ভূমিপুত্র কথাটা না বলে তিনি বোলপুরে বললেন। সবাইকে চিন্তার মধ্যে রেখে দিলেন। সবাই এখন ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন ধরিত্রীপুত্রটা কে যাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী করার ইচ্ছা ্প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অমিতের এই মন্তব্য আবার রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করলো বলা যেতে পারে। তবে যিনি বিজেপির পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী হবেন তাঁকে সমানে নিযে আসতে চাইছেন না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এখনই। তবে বিজেপি কাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী করতে চায় সেটা জানা কোনওভাবে সম্ভব নয়। বিজেপি এবারে বিধানসভার নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মুখকে সামনে রেখে নির্বাচন করবে না। বিজেপি কোনও কালেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখকে সামনে রেখে নির্বাচনে লড়াই করার চেষ্টা করেনি। তবে মহারাষ্ট্রে ফড়নবিশ মুখমন্ত্রী ছিলেন সেই কারণে তাঁকে সমানে রেখে বিজেপি নির্বাচনী লড়াই করে গিয়েছে। বলা হয়েছে বিজেপিতে বহু শক্তিশালী নেতা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে থেকে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। তবে যিনিই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হোন না কেন তিনি পশ্চিমবঙ্গের ধরিত্রীপুত্র। তাঁকে বাইরে থেকে নিযে এসে বসানো হবে না। তিনি পশ্চিমবঙ্গের সংস্ৃ্কতির মধ্যে দিযে বড় হযেেন। এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে দিযে এখানকার পরিবেশের মধ্যে তিনি বড় হযেেন। এখানকার মানুষের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা রযেে। বহু অঙ্ক কষতে শুরু করে দিযেে বিজেপি। বলা যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনী রাজনীতি নিযে এখনই বিজেপি বড় ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে শুরু করে দিয়েছে। সেই কৌশলের সঙ্গে যারা পাল্লা দিযে লড়াই করতে পারবে তারাই এবারে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায বসবে। তবে বিজেপি যেভাবে এগিযে আসতে শুরু করে দিয়েছে তাতে মনে করা হচ্ছে যে 2021 সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। তৃণূল কংগ্রেস থাকবে না বিজেপি আসবে এই রকম অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সর্বত্র। ভোটাররা এখন দোটানায পড়ে গিয়েছে। তারা কাকে ভোট দেবে সেটা ৱুঝতে পারছে না। বিজেপি না তৃণমূল কংগ্রেস? দুটো দলের কার‌্যবলীর যাচাই করতে শুরু করে দিয়েছে ভোটাররা। তারা খতিয়ে দেখতে শুরু করে দিয়েছে কাকে ভোট দিলে আগামি দিনে দেশটা সুরক্ষিত থাকবে। দেশকে সুরক্ষিত রাখাটাই হচ্ছে এখন বড় কথা। যেভাবে চিন এবং পাকিস্তান এগিয়ে আসতে শুরু করে দিয়েছে । গোটা ভারতটাকে গ্রাস করে নেওযার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তাতে আগামি দিনে ভারতকে সুরক্ষিত করে রাখতে না পারলে গোটা দেশটা একেবারে একটি ভয়ঙ্কর অবস্থার সম্মুখীন হবে সেটা স্পষ্ট। চিনের সঙ্গে ইতিমধ্যে সীমান্ত নিযে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু চিন ভারতের দখলীকৃত সীমান্ত এলাকা এখনও ছেড়ে দেয়নি। এদিকে কেন্দ্রীয সরকার চিনের সঙ্গে সীমান্ত রেখা চিহ্নিত করার ব্যাপারে আগ্রহ ্প্রকাশ করেছে। এতদিন ধরে চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত নিযে কোনও আলোচনা হয়নি। বহু সীমান্ত এলাকা চিহ্নিত ছিল না। ফলে ওই স্থানগুলো কার, ভারত না চিনের সেটা নিযে ্প্রশ্ন দেখা দিতে শুরু করে দিয়েছিল। ফলে এবারে চিনের সঙ্গে ভারত সরকারের আলোচনা হতে শুরু করে দিয়েছে সেটা হচ্ছে সীমান্ত চিহ্নিতকরণ। সীমান্ত এলাকা চিহ্নিত করে চিনর সঙ্গে সীমান্ত নিযে বোঝাপড়াটা একেবারে সমাপ্ত করে ফেলা। চিন কোনও সমযে আর পাল্টা সীমান্ত নিযে আর কোনও দাবি আগামী দিনে না করতে পারে। ভারত চিন সীমান্ত চিহ্নিতকরণ করাটাই হচ্ছে এখন বিদেশ মন্ত্রক এবং ্প্রতিরক্ষামন্ত্রকের মূল লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত যোগ রয়েছে । সীমান্ত রযেে। ফলে পশ্চিমবঙ্গকে সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্রীয সরকার যথেষ্ট উদ্যোগী। সেই কারণে কেন্দ্রীয সরকার চাইছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে একটি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করতে। সেটা করতে গেলে দরকার হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করা। ফলে বিজেপি এখন চেষ্টা করছে কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করা যেতে পারে। তার ওপরে বাংলাদেশ থেকে বহু লোকেরা সীমান্ত পার হযে পশ্চিমবঙ্গে ্প্রবেশ করছে। সেই সব বাংলাদেশীদের ভারতে ্প্রবেশ করাটা রুখে দেওযার ব্যাপারটা দেখতে শুরু করে দিযেে বিদেশ মন্ত্রক। ্প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে খবর রয়েছে যে বাংলাদেশ থেকে ্প্রায সমযে সীমান্ত অতিক্রম করে বহু লোক ্প্রবেশ করছে। ফলে তাদেরকে চিহ্নিত করে আবার বাংলাদেশে পাঠিযে দেওযার ব্যাপারে বিদেশ মন্ত্রক চিন্তিত। ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পরিস্কার করে বলে দিলেন যে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনের পর বিজেপি দলের পক্ষ থেকে যিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন তিনি বাংলার ধরিত্রীপুত্র। তবে কে সেই ধরিত্রীপুত্র সেটা ্প্রকাশ করেননি বা বলেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের নেতারা ধরতে শুরু করে দিযেেন যে শুভেন্দু অধিকারীকে সামনে রেখে বিজেপি এবারে নির্বাচনী লড়াই করতে শুরু করবে। এটা ঠিক যে পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেস বেশ খানিকটা ধাক্কা খাবে। এখন থেকে তৃণমূল কংগ্রেস যদি মেদিনীপুরের দিকে ভালো করে না তাকায তাহলে তার খেসারত দিতে হবে। কারণ মেদিনীপুরের হেভিওযে নেতা হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাকে বাদ দিযে মেদিনীপুরে কোনও রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলা একেবারে অসম্ভব। মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পরিবেশটা ধরে রেখে দিয়েছে অধিকারী পরিবারের সদস্যরা। ফলে অধিকারী পরিবার যে দলের পক্ষে থাকবে সেই দলই শক্তিশালী হবে মেদিনীপুরে এটা স্পষ্ট হযে গিযেে। শুভেন্দু বিরোধীরা সেখানে কোনও কিছু করতে পারবে না। কারণ তারা খুবই দুর্বল। কংগ্রেস এবং বামপন্থীরা এক সমযে মেদিনীপুরে শক্তিশালী ছিল। আজকে কংগ্রেস বা বাম দলের সেই শক্তি নেই। মেদিনীপুরে কোনও রাজনৈতিক দলের শক্তি না থাকলে তার পক্ষে বাংলায রাজনৈতিক ্প্রভাব বিস্তার করা একেবারে অসম্ভব।
আগামী দিনে বিজেপির মুখ্য হিসাবে বহু জনের নাম উঠতে শুরু করে দিয়েছে । সেখানে বারবার একটি নাম উঠতে শুরু করে দিযেে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যাযে নাম। কিন্তু সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায কোনও রকমভাবে রাজনীতিতে জড়াবেন না সেটা স্পষ্ট হযে উঠেছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায আগামী দিনে আইসিসি’র সভাপতি হওযার দৌড়ে রয়েছেন। কিন্তু তিনি আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ট। তৱুও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যাযকে বহুবার বহু রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের দলে টানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। বিজেপির একটি অংশ মনে করছেন সৌরভ রাজনীতির লোক নন। বাঙালির ‘আইকন’ হিসাবে তাকে দলের মধ্যে রাখা যেতে পারে। তাঁর জন্প্রিযতাকে কাজে লাগিযে বিজেপির রাজনৈতিক ্প্রচার করার ইচ্ছা ্প্রকাশ করলেও সেটা হচ্ছে না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অমতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনও রকমভাবে সৌরভের নাম রাজনীতিতে জড়াতে এখনই চাইছেন না। ফলে আপাতত সৌরভের নামকে রাজনীতির থেকে দূরে রাখা হযেে। এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদান করা নিযে রাজনৈতিক মহল উত্তাল হযে উঠতে শুরু করে দিয়েছে। আগামি দিনে মেদিনীপুরের শাসক দলের অবস্থা কী রকম হবে তা নিযে জল্পনা সৃষ্টি হযে গিয়েছে। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, শুভেন্দু অধিকারী বহুকাল আগে থেকেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওযার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছিলেন। সেটা হল না বলেই তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করলো শুভেন্দু। এদিকে শুভেন্দু অধিকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। বিজেপির দলের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর সাংগঠনিক দক্ষতার ্প্রশংসা শুনতে পাওযা গিয়েছে। বিজেপি দলের অন্যান্য নেতাদের ্প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে দিতে পারে। ফলে বিজেপিতে সবাই এখন তটস্থ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ধরিত্রীপুত্র বলে কাকে নির্দেশ করেছেন তা তিনি স্পষ্ট করে বলেননি। তার ফলে সবাই এখন উত্সুক হযে রয়েছেন কে হচ্ছেন ধরিত্রীপুত্র? তবে এদিন বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিজেপির সংসদীয বোর্ড সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন কে হবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে শাসক দলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন সেটা স্পষ্ট করে দিলেন শাসক দলের দলের মুখ্যসচেতক সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায। তৃণমূল কংগ্রেসে মিরজাফরদের জাযগা নেই। বাঙালিরা তাদেরকে ্প্রত্যাখান করেছে। নারদ কাণ্ড থেকে মুক্তি লাভ করার জন্যই বিজেপিতে যোগদান করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নারদ কাণ্ড এখন দেশের শীর্ষ আদালতের অধীনে রয়েছে। ফলে নারদ কাণ্ড নিযে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতারা কোনও কথা বলতে পারছে না। এদিকে ইডির তদন্তের জালে জড়িযে রযেে নারদ কাণ্ড। সিবিআইও এ ব্যাপারে তদন্ত করতে শুরু করে দিয়েছে। সারদা কাণ্ড নিযে তদন্ত চলছে। বিধানসভার ভোটের পর সারদা নারদ কাণ্ডের মামলা শুরু হবে বলে জানতে পারা গিয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, বিজেপি দলে ঢুকলে সব কিছু মাফ হয়ে যায় না। বিজেপির কোনও নেতা আইনের উর্ধ্বে নন। সবাইকে আইনের অধীনে থাকতে হয়। বিজেপি দলের কোন রকম দোষীদের থাকার অধিকার নেই। দোষ করলে বিজেপি দলে থাকা একেবারে অসম্ভব। সবাইকে দোষ ঙ্খালন করে বিজেপি দলে নাম লেখাতে হয় । বিজেপি দলে থেকে কারোর কাছ থেকে ঘুষ খাওয়া যায় না। বিজেপি দল খুবই শক্তিশালী দল। এই দলের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে । বিজেপি দলে এলেই একদিনে তাদের দলের নেতা করে দেওযা হয় না বা মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয় না। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি থাকতে হয এবং বিজেপির আদর্শকে নিযে চর্চা করতে হয় । তবেই বিজেপি দল তাকে নেতা করতে ্প্রস্তুত থাকে। বিজেপি দলে যারা রয়েছেন তারা ্প্রত্যেকেই বিজেপি দলে ্প্রায় ত্রিশ বছর ধরে কাজ করে চলেছেন। বিজেপি দল আজকে ভারতে সেরা দলে পরিণত হতে পেরেছে তার একটি মাত্র কারণ হচ্ছে বিজেপি দলের স্বচ্ছ নির্দিষ্ট নীতি রয়েছে । তার ওপরে ভিত্তি করেই বিজেপি দল চলে। ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি দল একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিজেপি দলের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারত দেশটাকে মহান রূপে ্প্রতিষ্ঠিত করা। বিজেপি সব সমযে চেষ্টা করছে অখণ্ড ভারত তৈরি করতে। বিজেপি দল স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে সমানে রেখে এগিয়ে চলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিজেপি স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ থেকে কোনও সময়ে বিচযত হয় না।

Loading...