বাড়ি দেশ অনিৰ্দিষ্টকালীন ডিমা হাসাও বনধ, উত্তপ্ত হাফলঙে লাঠিচাৰ্জ, কাঁদানে গ্যাস-শূন্যে গুলি পুলিশের

অনিৰ্দিষ্টকালীন ডিমা হাসাও বনধ, উত্তপ্ত হাফলঙে লাঠিচাৰ্জ, কাঁদানে গ্যাস-শূন্যে গুলি পুলিশের

121
0

হাফলং (অসম), ১১ ফেব্রুয়ারি : অসমের অন্যতম পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাওকে দুভাগে বিভক্ত করে পৃথক দুই ডিস্ট্রিক্ট গঠনের দাবির ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৫-টা থেকে আহূত অনির্দিষ্টকালীন বনধ-কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলা সদর হাফলং। আজ সকালে সিনোড রোটারির কাছে পিকেটার্সদের রুখতে গেলে হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত বনধ সমর্খকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে প্রথমে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গেলে বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস এবং পরে শূন্যে গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ। তবে গোলাগুলির ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি। 
প্রসঙ্গত, অনির্দিষ্টকালের জেলা বনধ-এর ডাক দিয়েছিল ইন্ডিজেনাস পিপলস ফোরাম নামের সংগঠন। রাজ্যে চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে আহূত বনধ প্রত্যাহার করতে ইন্ডিজেনাস পিপলস ফোরামের নেতৃত্বের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন জেলাশাসক অমিতাভ রাজখোয়া এবং পুলিশ সুপার বীরবিক্রম গগৈ। আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দাবির ভিত্তিতে আগামী দশদিনের মধ্যে দিশপুরে রাজ্য সরকার আলোচনায় বসবে। কিন্তু প্রশাসনের কোনও আবেদন বা আশ্বাস কানে তুলেননি বনধ-এর আহ্বায়করা।
এছাড়া ডিমা হাসাও জেলার বিভিন্ন জাতি জনগোষ্ঠীর বৃহৎ সংগঠনগুলির জয়েন্ট কর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকেও সর্বাবস্থায় ডিমা হাসাও জেলায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়ে বনধ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন জয়েন্ট কর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস সাংসন। কিন্তু কোনও কিছুতেই বনধ প্রত্যাহারে রাজি হয়নি ইন্ডিজেনাস ফোরাম।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি একই দাবিতে ইন্ডিজেনাস পিপলস ফোরামের ডাকা ১২ ঘণ্টার বনধে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে হিংসাত্মক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল। তাই আজকের বনধকে কেন্দ্র করে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে নিয়ে সতর্ক জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। ডিমা হাসাও জেলার পুলিশ সুপার বীরবিক্রম গগৈ জানান, বনধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা সংগঠিত না হয়, যে কোনও অবস্থায় জেলার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে সেদিকে পুলিশ তীক্ষ্ণ নজর রাখবে। পুলিশ সুপার বলেন, কেউ যদি বনধকে কেন্দ্র করে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার চেষ্টা করে তা হলে এর বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পুলিশ সুপার জানান, বনধকে সামনে রেখে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী নিয়ে আসা হয়েছে। তাছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএসএফকেও নিয়োজিত করা হয়েছে, জানান পুলিশ সুপার বীরবিক্রম গগৈ। 

Loading...