বাড়ি কলকাতা অকালবর্ষণ ও করোনার জেরে আলুর দাম উর্দ্ধমুখী

অকালবর্ষণ ও করোনার জেরে আলুর দাম উর্দ্ধমুখী

42
0

কলকাতা, ২০ মার্চ : বাজারে বাড়তে শুরু করেছে আলুর দাম। এই দাম আরও বাড়বে বলে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আশঙ্কা। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, অকালবর্ষণে মাঠের প্রচুর আলু নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই এই অবস্থা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনার আতঙ্কজনিত পরিস্থিতি।  

কোথাও কোথাও কালবৈশাখীর মত ঝড় তার দোসর তো কোথাও আবার পড়েছে শিল। দুইয়ের হাত ধরেই পারা নেমেছে বাংলায়। সেই সঙ্গে মাথায় হাত পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের নানা জেলার আলুচাষীদেরও। কারণ বসন্তের এই অকাল বর্ষণে মাঠেই পচে যাবে চাষ হওয়া আলু, যা এই রাজ্যের অন্যতম অর্থকারী ফসল।কয়েকটি কোল্ডস্টোরেজ এর মালিক স্বপন মন্ডল বাজারে আলুর দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে সোমবার বলেন, “পোখরাজের মত আলু নভেম্বরের চাষ হয়। ডিসেম্বর জানুয়ারি নাগাদ সেগুলো বাজারে পাওয়া যায়।  কিন্তু জ্যোতি আলু সাধারণত বপন করা হয় ডিসেম্বর জানুয়ারি নাগাদ। অকালবর্ষণে এই আলুর রোপন বেশ কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে।”পশ্চিমবঙ্গের প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় শুক্রবার ‘হিন্দুস্তান সমাচার’-কে বলেন, “গতবছর প্রায় ৯০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু চাষ হয়েছিল।  এর মধ্যে বিভিন্ন হিমঘর থেকে নেওয়া হয়েছিল ৬৩ লক্ষ মেট্রিক টন। এবছর তা প্রায় ১২ শতাংশ কমে গিয়েছে। এবার বৃষ্টির জন্য আলুর মাটি তৈরি করতে দেরি হয়েছে। ফলে পেছিয়ে গিয়েছে আলুর বীজ রোপন। চাষী কিন্তু বাজারে কিলোপিছু ১২ কিছু টাকার বেশি পাচ্ছেনা। পাইকারি বাজারে সেই দাম হয়েছেছে ১৪ টাকা। কিন্তু খদ্দেরের হাতে যখন পৌঁছচ্ছে আরও ১০ টাকা কেন যুক্ত হচ্ছে তা সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত। 
লালুবাবুর দাবি, “হিসেবমত আলুর পরিবহণ-খরচ কিলোপিছু এক টাকা হওয়া উচিত।  কিন্তু বাজারে আলুর নিয়ন্ত্রণ করে অনেক সময় ফড়েরা অশুভ প্রভাব তৈরি করছেন।“ স্বপনবাবু অবশ্য এই প্রতিবেদককে বলেন, “আলুচাষ কতটা পিছিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, সেটা এখনই বলা যাবে না।  আরও অন্তত সাত দিন বাদে বোঝা যাবে। কারণ, এই অধিকাংশ আলুই এখনও মাটির নিচে রয়েছে।  বৃষ্টির জন্য আলুর ফলন মার খাবে কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত এখনও বলা যাচ্ছে না। কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে আলু মজুত করতে শুরু করে দিয়েছে। এখনই প্রশাসন সতর্ক না হলে বাজারে আলুর দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।“

Loading...