বাড়ি Uncategorized হাতে তৈরি ত্রিপুরার অর্গানিক চা এবার যাচ্ছে চিন ও জাপানের প্রভাতী আসরে

হাতে তৈরি ত্রিপুরার অর্গানিক চা এবার যাচ্ছে চিন ও জাপানের প্রভাতী আসরে

72
0


আগরতলা, ২৭ আগস্ট : ত্রিপুরায় তৈরি অর্গানিক চা এবার চিন এবং জাপানে প্রভাতী চায়ের টেবিলে পাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষামাত্র। আগরতলা শহর থেকে প্রায় ১২ কিমি উত্তরে দুর্গাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের গোপাল চক্রবর্তী। কর্মজীবনের শুরুতে ধান-সহ সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, তিনি এখন একজন সফল ক্ষুদ্র ও অর্গানিক চা চাষি। গোপালবাবু এখন সম্পূর্ণ হাতে চা পাতা তৈরি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তিনি একা নিজ হাতে গ্রিন টি এবং ব্ল্যাক টি যা অর্থডকস টি নামে বিশ্বে পরিচিত, এই দু-ধরনের চা পাতা তৈরি করছেন। তাঁর উৎপাদিত চায়ের গুণগতমান পরীক্ষা করে ভারত সরকারের “চা নিগম” হাতে তৈরি আর্গানিক চা উৎপাদকের সার্টিফিকেট দিয়েছে। তিনি জানান, আজ থেকে চার বছর আগে হাতে তৈরি অর্গানিক চা উৎপাদন এবং বিক্রি শুরু করেছেন। গ্রিন টি’র জন্য বিশেষ ধরনের ছোট পাতা তোলা হয় এবং এর পর পাতাগুলিকে গরম জলের ভাপে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেদ্ধ করে এগুলিকে পাখা চালিয়ে শুকান। সব শেষে ড্রায়ারে ঢুকিয়ে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এগুলিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে শুকনো করেন। 
গোপাল চক্রবর্তী আরও জানান, ৯০০ গ্রাম চা পাতা তৈরি করতে প্রায় ৫ কেজি কাঁচা পাতার প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে এক মাসে প্রায় ২০ কেজি চা পাতা তিনি তৈরি করেন বলে জানান। ভারত সরকারের চা নিগমের তরফে অসমের ডিব্রুগড় শহরে চা তৈরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই তিনি চা পাতা প্রক্রিয়াকরণ শিখেছেন। তাছাড়া আগরতলায় অবস্থিত চা নিগমের আঞ্চলিক অধিকর্তা দিগন্ত বর্মন তাঁকে অর্গানিক চা তৈরির জন্য নানা সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বলেও জানান। তিনি জানান, তাঁর ইচ্ছে, নিজের হাতে তৈরি চা শুধু ভারতের বিভিন্ন শহরেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ুক। তাই তিনি চা উন্নয়ন নিগম প্রদর্শিত প্রতিটি নিয়ম ও নীতি মেনে চা পাতা তৈরি করছেন। 
ইতিমধ্যে তার কিছুটা সাফল্যও এসেছে। চা নিগম তাঁর তৈরি চা পাতার নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছে। এই পরীক্ষায় পাশ হওয়ার পর চিন এবং জাপানে নমুনা পাঠানো হয়েছে। সেখানে আবার পরীক্ষা হবে এবং তারা তাদের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখবে। এতে এই চা ১০০ শতাংশ অর্গানিক বলে সার্টিফিকেট দিলে তিনি ওইসব দেশে তাঁর হাতে তৈরি চা রফতানির ছাড়পত্র পাবেন। গত প্রায় ১৫ দিন আগে তাঁর তৈরি চায়ের নমুনা বিদেশে পাঠিয়েছে চা নিগম। 
গোপালবাবুর মোট ২.৮১ হেক্টর জমিতে চা বাগান রয়েছে, সম্পূর্ণটাই অর্গানিক বাগান, জানান তিনি। প্রথম বছর আগরতলার শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় ১৫ দিনে ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের স্টলে বসে তাঁর হাতে তৈরি চা পাতা বিক্রি করেছেন মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকার। তখন তার হাতে তৈরি চা-এর প্রতি কেজির মূল্য ছিল দেড় হাজার টাকা। পরের বছর তাঁর চা পাতার বিক্রি সামান্য বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয় বছর মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকার। এর পর যথাক্রমে তৃতীয় বছর ১৫ হাজার টাকা, চতুর্থ অর্থাৎ এ-বছর বিক্রি হয়েছ প্রায় ২৫ হাজার টাকার চা পাতা। বর্তমানে তাঁর উৎপাদিত গ্রিন টি-র মূল্য প্রতি কেজি ২,৮০০ টাকা। এই বিক্রির হিসাব মূলত ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন মেলা প্রাঙ্গণের স্টলে। এছাড়াও ত্রিপুরার চা উন্নয়ন নিগমের যে পাঁচটি স্টল রয়েছে আগরতলার বিভিন্ন এলাকায় সেগুলোতেও তাঁর হাতে তৈরি চা পাতা বিক্রি হচ্ছে। স্টলগুলোতে এক মাসে প্রায় কুড়ি হাজার টাকার চা পাতা বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আগামী দিনে হোয়াইট টি-সহ আয়ুর্বেদিক চা পাতা তৈরি করার ইচ্ছে তাঁর রয়েছে বলেও জানান গোপাল চক্রবর্তী।

Loading...