বাড়ি অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকারা কতটা সামর্থ শিশুদের মন বুঝতে, উঠছে প্রশ্ন

শিক্ষক শিক্ষিকারা কতটা সামর্থ শিশুদের মন বুঝতে, উঠছে প্রশ্ন

49
0

কলকাতা, ২ নভেম্বর : কথায় বলে বিদ্যালয় শিশুদের দ্বিতীয় বাড়ি| তাই সেখানে থাকা অভিভাবক অর্থাৎ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভুমিকা সেই শিশুদের জীবনে অনেকটা| শ্রেণিতে একটা শিশু কতটা মনোনিবেশ করছে বা কতটা অন্যমনস্ক থাকছে তা দেখার দায়িত্ব যেমন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের| তেমনই তাদের মানসিক স্বাস্থ্য বোঝার দায়ও অনেকখানিই বর্তায় এই  শিক্ষক-শিক্ষিকাদের| কিন্তু এই পথ প্রদর্শকরা কতটা সক্ষম ছোট ছোট শিশুদের মন বুঝতে? কিংবা আদৌ কি তাঁরা সক্ষম? সেই বিষয়ে শনিবার এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল ফর্টিস হেল্থকেয়ারের তরফ থেকে|

এদিন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষিকা জানান, তাঁর এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে যে তাঁর ক্লাসের এক ছাত্র অতিরিক্ত মাত্রায় অনলাইন গেম খেলায় আসক্ত| এমনকি সেই ছাত্র ভোর রাত তিনটে থেকে গেম খেলতে থাকে| পাশাপাশি ওই শিক্ষিকা যোগ করেন, যদিও সেই ছাত্র পড়াশোনায় খুবই ভালো| কিন্তু এই আসক্তির ফলে তাঁর মনোযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে| এর উত্তরে ফর্টিস হেল্থকেয়ারের ডিরেক্টর ডঃ সমীর পারিখ জানান, “ওই ছাত্রকে স্যোশাল মিডিয়ার খারাপ দিক বোঝালে সে বুঝতে চাইবে না| বরং তাঁকে বোঝাতে হবে সেই অনলাইনে মজে থাকার ফলে বাস্তব জিনিসে কি কি পাচ্ছেনা|” সমিরবাবু আরও জানান, “ওই ছাত্রকে বোঝাতে হবে সেই গেম খেলায় মজে থাকার জন্য তার বন্ধুদের সাথে মজা করতে পারছেনা, তাঁদের সাথে খেলতে পারছেনা| তাঁকে বাস্তব জীবনের প্রতি আকর্ষন করে ভার্চুয়াল জততের মোহো কাটাতে হবে| আর এই কাজ একমাত্র করতে পারবেন শিক্ষক শিক্ষিকা এবং অভিভাবকরা|” তবে এই প্রক্রিয়া যে বেশ কঠিন এবং সময় সাপেক্ষ তা তিনি স্বীকার করে নেন|

গ্রেস লিং লিয়াং স্কুলের ভূগোল শিক্ষিকা অস্মিতা ঠাকুর| তিনি জানাচ্ছেন, “তাঁর অভিজ্ঞতায় এটা প্রায়ই হয়েছে যে ক্লাসে কোনও ছাত্র বা ছাত্রী পড়ানোর সময় নিজের কাজই করে যাচ্ছে| কোনোভাবেই পড়া শুনছেনা| এমন তার হাবভাবও স্বাভাবিক আর পাঁচটা বাচ্চার মত নয়| সেক্ষেত্রে বাচ্চাটির অভিভাবককে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি একটা কাউন্সেলিং করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়|” ওই শিক্ষিকা আরও জানান, “কাউন্সেলিং করানোর কথা বললেই অনেক অভিভাবক ঘাবড়ে যান| বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারেননা| বা বিষয়টিকে এড়িয়ে যান| এখানের এই কর্মশালার পর এবার আমরা স্কুলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আরো ভালো ভাবে এই ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারব|”

একই সুর শোনা গেল গুরুবচন সিং সন্ধি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার গলাতেও| তাঁর কথায়, “ স্কুলে এত বাচ্চা থাকায় সবার দিকে সমান ভাবে নজর দেওয়া হয়ে ওঠেনা| কিন্তু তার মধ্যেই কাউকে দেখে সামান্য কিছু অস্বাভাবিক মনে হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে অভুভাবকদের সাথে যোগাযোগ করি|” এদিনের কর্মশালায় যে তাঁরা বিশেষ ভাবে উপকৃত হয়েছেন সে কথা জানাতেও ভুললেননা তিনি|

মানসিক স্বাস্থ্যের দরুন একজন মানুষ তাঁর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ  এবং তার চারপাশে থাকা অন্যান্যদের সঙ্গে যুক্ত হতে বা একাত্ম হতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এই দক্ষতার জোরে মানুষ তার জীবনের নানাবিধ চ্যালেঞ্জকেও গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। মানসিক স্বাস্থ্যের ধারণার সঙ্গে মানসিক দুর্বলতা বা অস্বাভাবিকতার কোনও সম্পর্ক নেই। এই কথা জানিয়ে ডঃ সমির পারিখ বলেন, “অভিভাবকদের বাচ্চাদের সময় দিতে হবে| সেক্ষেত্রে বাবা মায়েরা কর্মরত হলে সমস্যা নেই| কিন্তু দিন শেষে তাঁরা বাচ্চাদের সাথে কতটা ভালো সময় কাটাচ্ছেন সেটাই দেখার”| একই সাথে বাচ্চাদের সাথে সময় কাটানোর ওই সময়টায় মোবাইল, টিভিকে দুরে রেখে বরং তাঁদের আগ্রহ, পড়াশোনা বা খেলাধুলা নিয়ে আলোচনাকেই জোর দিচ্ছেন তিনি|

ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচক দিক দিয়ে বিচার করেছে। তাদের মতে স্বাস্থ্য হল শরীর, মন এবং সমাজের ভাল দিকগুলির মেলবন্ধন। এই ভাবনার সঙ্গে রোগ বা দুর্বলতার দিকটি যুক্ত নয়। ‘হু’ আরও বলেছে যে, সুচিন্তার অধিকারী মানুষ তার দক্ষতা বাড়াতে সব সময়ই সচেষ্ট| এই দক্ষতাই তাকে জীবনের বিপর্যয়গুলির মোকাবিলা করে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সাহায্য করে| পাশাপাশি সে উৎপাদনশীল কাজেও নিজেকে নিয়োগ করতে পারে|

Loading...