বাড়ি কলকাতা শহর অন্য রকম পুজো নিয়ে মাতোয়ারা

শহর অন্য রকম পুজো নিয়ে মাতোয়ারা

60
0

 কলকাতা, ২৮ আগস্ট : শহরে সপরিবারে হাজির চণ্ডীর আর এক রূপ। তিনিও দুর্গারই অংশ। তাঁরও আগমন হয়েছিল অসুর দমনের উদ্দেশ্য নিয়েই। তবে এই অসুর মহামারি। মহামারি রুখতে আজ থেকে ২৫০ বছর আগে হাজির হয়েছিলেন দুর্গার এক অংশ নৃত্যকালী। মঙ্গলবার রাতে মহামারি রোখা সেই দেবীর আরাধনা হল উত্তর কলকাতার বি কে পাল অ্যাভিনিউ অঞ্চলে। 

সুতানুটি গ্রামের ঐতিহাসিক এই কালী পুজো শুরু হয়েছিল ১১৭৬ বঙ্গাব্দে। সেই বছর বাংলায় দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর ব্যাপক প্রকোপ। এমন সময়েই শুরু হয়েছিল শোভাবাজার বেনিয়াটোলার ভাগীরথীর তীরে বসবাসকারী এক জটাধারী সন্ন্যাসিনী ‘মোহনটুনি মাতা’র স্বপ্নে পাওয়া নৃত্যকালী মা-য়ের পুজো। কথিত রয়েছে সন্ন্যাসিনী নিজ হাতে মূর্তি তৈরি করেছিলেন।  শোভাবাজার বেনিয়াটোলা পল্লিবাসী করল সেই নৃত্যকালীর আরাধনা। 

লোহা ও কাঠ দিয়ে তৈরি মায়ের এই কাঠামো বুদ্ধপূর্ণিমায় পূজা করা হয়।  মায়ের মূর্তি বেনিয়াটোলার সেন বাড়িতে বংশ-পরম্পরায় মৃৎশিল্পীর হাতে তৈরি হয়। প্রত্যেক বছর বাংলা ভাদ্র মাসে প্রথম অমাবস্যা তিথিতে বিকে পালের পূজা প্রাঙ্গনে নিয়ে আসা হয় দেবীকে। এর পর বহু অলংকারে সাজানো হয়। মায়ের সঙ্গে থাকেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, গণেশ ও জয়া-বিজয়া, চিল, ঘড়ি এবং ঘোড়ায় চড়া বহুসখী। তিনদিন ধরে হয় পুজো। প্রায় ছ’সাত জন ব্রাহ্মণ- হোম, যজ্ঞ, পুজানুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকেন। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তবৃন্দ মায়ের পুজোর জৌলুস দেখতে ছুটে আসেন। একদিকে চলে মেলায় কেনাকাটি, বাদাম, জিলিপি খাওয়ার আনন্দ। 

অন্যদিকে, মায়ের সামনে অনুষ্ঠান মঞ্চে চলে নাচ, গান, নাটক যাত্রার আনন্দ। আগে পূজোয় পশুবলি হত। বহু বছর সেই প্রথা বন্ধ হয়ে গেছে । এখন চারদিনের পুজোর মধ্যেই একদিন, স্বেচ্ছায় ‘রক্তদান’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চতুর্থ দিনের পুজোর পর সন্ধ্যায় বিরাট শোভাযাত্রা সহকারে মা পল্লী-ভ্রমণে বেরোন। শেষে বেনিয়াটোলা গঙ্গা ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়।

Loading...