বাড়ি আন্তর্জাতিক লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে গ্রেফতার উইকিলিক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে গ্রেফতার উইকিলিক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

46
0

লন্ডন, ১১ এপ্রিল : গ্রেফতার উইকিলিক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ | বৃহস্পতিবার লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে | যৌন হয়রানির অভিযোগে সুইডেনে গ্রেফতারি এড়াতে ২০১২ সালে ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। তাঁকে সেন্ট্রাল লন্ডন থানার হেপাজতে রাখা হয়েছে। 
সাত বছর লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস শরণার্থী আশ্রয়ে থাকার পর গ্রেফতার করা হয়েছে উইকিলিক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে।জানা গেছে, তার শরণার্থী মর্যাদা তুলে নেওয়া হলে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে সেন্ট্রাল লন্ডন থানার হেপাজতে রাখা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে দূতাবাসটিতে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন অ্যাসাঞ্জ। তাঁর গ্রেফতারের সত্যতা স্বীকার করেছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ | অ্যাসাঞ্জকে এখন সুইডেন অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সমর্পণ করা হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তথ্য চুরিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অবাধ তথ্যে প্রবাহে বিশ্বাসী অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জ বিকল্পধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠা করেন ২০০৬ সালে। তবে সংগঠনটি আলোচনায় আসে ২০১০ সালে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ করে। সেসময় কয়েক লক্ষ মার্কিন গোপন নথি ফাঁস করে উইকিলিক্স হইচই ফেলে দেয় বিশ্বজুড়ে। তখন থেকেই বিশ্বব্যাপী আলোচনায় উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ওই বছরেই যৌন হয়রানির অভিযোগে সুইডেনে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তথ্য চুরিরও অভিযোগও রয়েছে । গ্রেফতার এড়াতে ২০১২তে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ।
ইকুয়েডরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেছেন, তারা অ্যাসাঞ্জের শরণার্থী মর্যাদা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তাই অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় লন্ডন পুলিশের। 
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এদিন জানিয়েছে, আমাদের অফিসাররা দূতাবাসে ঢুকে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করে এনেছে। তিনি সাত বছর ওই দূতাবাসে ছিলেন। কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও আত্মসমর্পণ না করায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ টুইটারে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমি সহযোগিতার জন্য ইকুয়েডরকে ধন্যবাদ জানাই। প্রশংসা করি মেট্রো-পুলিশের পেশাদারিত্বের। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় | প্রায় সাত বছর ইকুয়েডর দূতাবাসে থাকার পর,আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, তিনি এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তিনি বলেন,অ্যাসাঞ্জ ব্রিটেনে বিচারের মুখোমুখি হবেন। 
অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় উইকিলিক্স বলেছে, ইকুয়েডর যা করেছে তা বেআইনি এবং আন্তর্জাতিক নিয়মবহির্ভূত। গত সপ্তাহে সাংবাদিক ও অ্যাসাঞ্জ সমর্থক জন ফিলগার লোকজনকে দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে অ্যাসাঞ্জকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই সাহসী যোদ্ধার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
এর আগে তাঁকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রসংঘ। রাষ্ট্রসংঘের নিপীড়ন বিষয়ক বিশেষ দূত আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এতে ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হতে পারেন বিকল্প সাংবাদিকতার উদাহরণ সৃষ্টিকারী এই অ্যাকটিভিস্ট।

Loading...