বাড়ি রাজ্য রূপনারায়ণে নদী-বাঁধে ফাটল, বন‍্যার আতঙ্কে গ্রামবাসীরা

রূপনারায়ণে নদী-বাঁধে ফাটল, বন‍্যার আতঙ্কে গ্রামবাসীরা

50
0


সুদীপ্ত আগুয়ান; হলদিয়াঃ অমাবস্যা কোটালের জেরে ফের ভয়াবহ ফাটল দেখা দিল  পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলের বাড়অমৃতবেড়িয়া গ্রামের রূপনারায়ণ নদী-বাঁধে। সোমবার সকালে ফের এমন  ভয়াবহ ফাটল দেখে গ্রাম জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার আতঙ্কে গ্রামবাসীরা। এই ঘটনার খবর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সেচ দপ্তরে দেওয়া হলে সমস্যা সুরাহার আশ্বাস পাওয়া যায়। তবে দ্রুত এই সমস্যার সুরাহা না হলে চলতি উৎসবের মরসুমে জলের তলায় ডুবতে হবে সমগ্র বাড়অমৃতবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দাদের।

উল্লেখ্য, গত ২রা অক্টোবর সকালে বাড়অমৃতবেড়িয়া গ্রামের বেলতলা সংলগ্ন রূপনারায়ণ নদী-বাঁধে প্রায় ১৫০ মিটার গভীর ফাটল দেখা দেয়। এর জেরে গভীর আতঙ্কে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। সেচ দপ্তরে ও ব্লক প্রশাসন স্তরের কর্তাব্যক্তিদের খবর দেন তারা। এরপর ওই ফাটল পরিদর্শনে যান হলদিয়া মহকুমার মহকুমা শাসক কুহুক ভূষন সহ সেচ দপ্তরের বিভিন্ন আধিকারিকরা। তারা নদী বাঁধ পরিদর্শনের পর গ্রামবাসীকে দ্রুত সুরাহার আশ্বাস দেন। এরপরই শুরু হয় বেলতলা সংলগ্ন ওই রূপনারায়ণ নদী বাঁধ মেরামতের কাজ। নদী-বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হতেই মুখে হাসি ফোটে গ্রামবাসীদের মধ্যে। ট্রাকে করে কাঁচা মাটি এনে ভাঙ্গা বাঁধের পাশে তৈরি করা হয় নতুন বাঁধ। সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তড়িঘড়ি রিং বাঁধের মাধ্যমে মেরামত শুরু হয় ওই বাঁধের। কিন্তু এর মাঝে ফের অমাবস্যা কোটালের জেরে ভয়াবহভাবে ফাটল দেখা দিল ওই রূপনারায়ন নদী-বাঁধে। যেখানে সারা দেশ জুড়ে দীপাবলি ও ভাইফোঁটা উৎসবে মেতে উঠেছেন মানুষজন সেখানে বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে বাড়অমৃতবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দাদের। অমাবস্যার জেরে বেশ কয়েকদিন ভরা কোটাল থাকবে। কিন্তু এই কয়েকদিন কি আদৌ বাঁচানো যাবে এই বাঁধকে? এই প্রশ্ন জেগেছে এখন গ্রামবাসীদের মনের মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দা সুকেশ মিশ্র জানান, “আমি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শুরু হয় এবং পাকাপাকি ভাবে বাঁধের কাজ করা হয়। তাতে হয়তো বাঁধ ভেঙে বন্যার হাত থেকে বাঁচবো আমরা।”

বাড়অমৃতবেড়িয়া গ্রামের এই বাঁধের একদিকে যেমন অবস্থিত রূপনারায়ণ নদী, তেমনই অপরদিকে রয়েছে জনবসতি। এই বাঁধ ভাঙার প্রায় এক বছর আগে বাট অমৃত বেরিয়া গ্রামে অনুরূপভাবেই ফাটল দেখা দিয়েছিল সড়কে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রশাসনের  যুদ্ধকালীন তৎপরতা মেরামত করা হলে এলাকাবাসীরা বন্যার হাত থেকে বেঁচে যান। কিন্তু ফের এবার এমন কোটালের সময় ভয়াবহ পরিস্থিতি। বাঁধ সারানো চলাকালীন এমন ক্ষেপে ক্ষেপে ভাঙ্গনে এখন গভীর চিন্তায় প্রশাসনিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে গ্রামবাসীরা। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য চন্দন বেরা জানান,”আমরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত এর সুরাহা মিলবে। তবে অমাবস্যা কোটাল চলায় যেকোনো মুহূর্তেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”।

ছবি:- অমাবস্যা কোটালে এমনভাবেই ফাটল দেখা দিয়েছে রূপনারায়ণ নদী বাঁধে।

Loading...