বাড়ি রাজ্য মালদা মালদা জেলার চাচোল রাজার আমল থেকেই হয়ে আসছে কালিদৌড় উৎসব

মালদা জেলার চাচোল রাজার আমল থেকেই হয়ে আসছে কালিদৌড় উৎসব

50
0


মালদা,  ২৯ অক্টোবর । মালদা জেলার চাচোল রাজার আমল থেকেই হয়ে আসছে মালতিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশিপাড়া গ্রামে কালিদৌড় উৎসব। এই কালিদৌড়ের সময় একবার দেবীমুর্তিকে ছোঁয়ার জন্য ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে কাশীপাড়ার মাঠে।   বিশ্বাস ভক্তদের সেই সময় যা মানদ করা যায়  তাই নাকি পূরণ হয় । প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো চাচোল রাজার এই ঐতিহ্য মেনে আজও কালিদৌড় প্রথা ধরে রেখেছেন কাশিপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। সোমবার রাতে চাচোলের কাজীপাড়া মাঠে সেই কালিদর সাড়ম্বরে পালিত হলো।  হাতে মশাল জ্বালিয়ে, বাঁশের মাচান করেৎদেবী মূর্তি ঘাড়ে নিয়ে শুরু হয় এই কালিদৌড় উৎসব। 

ভক্তদের বিশ্বাস,  দেবি মাতাকে ঘাড়ে নিয়ে একবার মাঠ প্রদক্ষিণ করতে পারলেই সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয়। তাই তিন শতবর্ষের পুরনো এই প্রথায় আজও কোনো ভাটা পড়ে নি।  বরঞ্চ এই কালিদৌড় উৎসব দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন কাশীপাড়ার মাঠে। কালীপুজোর পরের দিন এইসব পালিত হয়। স্থানীয় কাশিপাড়া কালিদৌড় সার্বজনীন উৎসব কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর নানান পরিষেবা দিয়ে থাকেন ভক্তদের। 

কাশিপাড়া সার্বজনীন উৎসব কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন,  তিনশো বছর আগে চাচোলের রাজা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই কাশিপাড়া মাঠে শুরু হয়েছিল কালিদৌড় উৎসব। তখন বিদ্যুৎ ছিল না বলে, গ্রামবাসীরা প্রত্যকেই হাতে মশাল জ্বালিয়ে ফাঁকা মাঠে এই কালিদৌড় উৎসব পালন করতেন।

স্থানীয় প্রবীনদের কথায়, একসময় চাচোল রাজা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সবথেকে প্রিয় মুনসি দেবব্রত উপাধ্যায়ের ছোট দুই মেয়ে মেলায় হারিয়ে গিয়েছিলো। মুন্সি ওই দুই কন্যা সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য রাজারই কালী মাতার মন্দিরে মানত করেছিলেন । কয়েকদিনের মধ্যে মালতীপুর এলাকার বাজারপাড়া কালিবাড়ি এবং বুড়ি কালী মন্দিরের সামনে থেকে পৃথক ভাবে নিজের দুই কন্যা সন্তানকে ফিরে পান চাচোল রাজার ওই মুন্সী। এরপর মুন্সি দেবব্রতবাবু একদিন স্বপ্নাদেশ পান যে বাজারপাড়া কালী এবং বুড়ি কালি তাদের কাশীপাড়ার মাঠে পুজোর পরেরদিন মাচানে করে নিয়ে আসতে হবে। এবং দুই প্রতিমাকে ঘাড়ে নিয়ে ভক্তেরা ছোটাছুটি করবে । এই স্বপ্ন দেশের কথা মুন্সি রাজাকে গিয়ে বলেন । এরপর রাজার আদেশে শুরু হয় কাশিপাড়া মাঠে কালিদৌড় উৎসব।

কাশিপাড়া সার্বজনীন উৎসব কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আদিত্য দাস বলেন,  বহু বছর আগে দুটি কালী প্রতিমা নিয়েই কালী দৌড় হতো । এখন কাশীপাড়ার মাঠে বুড়িকালি, বাজারকালী ছাড়াও হাটখোলা কালী,  শ্যামা কালী, হ্যান্টাকালী,  আমকালি, চনকা কালি এই সাতটি দেবীর মূর্তি নিয়ে কালিদৌড় উৎসব হয়। প্রতিটি কালী প্রতিমা থাকে সাড়ে পাঁচ হাতের।  বাঁশের মাচান করে ভক্তেরা তাতে দেবী প্রতিমাকে বসিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাম থেকে  প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে কাশিপাড়ার মাঠে মাচানে করি দেবী মূর্তি নিয়ে আসা হয়। তারপরে কালিদৌড় উৎসব শুরু হয়।  অসংখ্য ভক্তেরা কালী প্রতিমাকে নিয়ে ৫০ মিটার পাঁচবার ঘোরেন । প্রত্যেকের হাতে পাটকাঠির তৈরি মশাল থাকে।  কালীপুজোর পরেরদিন গোধূলি লগ্ন থেকেই শুরু হয় এই কালিদৌড় উৎসব । নিশি রাত পর্যন্ত এই উৎসবটি চলে। কালিদৌড়  হওয়ার পরে বিভিন্ন পূজা কমিটির সদস্যরা দেবীমুর্তি ঘাড়ে করে নিয়ে  পাশের পুকুরে বিসর্জন পর্ব শেষ করেন।

Loading...