বাড়ি রাজ্য মালদায় এসে আত্মসমর্পণ করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়

মালদায় এসে আত্মসমর্পণ করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়

131
0

  মালদা, ০৭ নভেম্বর।  গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে বাইক রেলির অভিযোগ উঠেছিল বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার মালদায় এসে আত্মসমর্পণ করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। যদিও তাকে এদিন জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এদিন মালদা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তলব করা হয়েছিল বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে। 

সম্প্রতি কাঁচরাপাড়ার বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বাড়িতে মালদার ওই আদালতের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়। তার পরই তড়িঘড়ি বৃহস্পতিবার গৌড় এক্সপ্রেস ট্রেনে শিয়ালদা থেকে মালদা আসেন মুকুলবাবু । এদিন সকাল ১১ টা নাগাদ তিনি মালদা সিজিএম কোর্টে হাজির হন । বিভিন্ন অভাব-অভিযোগের কথা শোনার পর জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে।

উল্লেখ্য,  ২০১৮ সালের ৪ মে  ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে মালদার ভুতনি থেকে মানিকচক পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিশাল একটি বাইক মিছিল করেছিলেন মুকুল রায়।  আর সেখানে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তৃণমূল প্রার্থী গৌড় চন্দ্র মন্ডলের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুস সামাদ একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই শুরু হয় মামলা। গৌড়বাবু বর্তমানে তৃণমূল পরিচালিত মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি রয়েছেন।  

তৃণমূল পরিচালিত মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মন্ডল বলেন,  ওরা সবসময় আইন হাতে তুলে কাজ করে। পুলিশকে রাত-দিন গালাগালি করছে। আইনকে ভৎসনা করছে । আর প্রশাসন যখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হচ্ছে, তখনই মানুষের কাছে বিভ্রান্তিমূলক কথাবাত্রা ছড়াচ্ছে ওরা । গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাইক রেলী করে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করেছিলো মুকুলবাবু। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমার নির্বাচনী এজেন্ট অভিযোগ দায়ের করে। তারই পরিপেক্ষিতে মামলা শুরু হয়েছে।

এদিকে দিন আদালত থেকে বেরিয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন,  আসলে ওরা বিজেপির উত্থানকে ভয় পাচ্ছে। কারণ, বাংলায় এখন পুলিশ দিয়ে মমতা ব্যানার্জি সরকার কাজ করাতে চাইছে। পুরনো দিনগুলি মমতা ব্যানার্জি ভুলে গেছেন। হয়তো এসব বিষয় মানুষ মেনে নেবে না । আমার বিরুদ্ধে যেসব ধারা আনা হয়েছিল। তা সবই জামিনযোগ্য। কিন্তু আমাকে বলা হয় জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে। সে কথাও আদালতে আমি তুলে ধরেছি । সব কিছু বিষয় খতিয়ে দেখে বিচারক বলেছেন কোথাও একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এরপরই আমাকে জামিন দিয়েছেন বিচারক।

মুকুলবাবুর আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র বলেন,  গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাইক রেলিকে কেন্দ্র করেই নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ হয়েছিল তৃণমূলের পক্ষ থেকে। ১৮৮, ৫০৬, ৩২ এবং ১৩৩ ধারায় মামলা রুজু হয় মানিকচক থানায়। ধারা গুলি জামিনযোগ্য । এদিন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মুকুলবাবু আত্মসমর্পণ করেন। তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। 

Loading...