বাড়ি রাজ্য ভোট আসে যায়দীনেশ পরেশের ভাগ্যে জোটেনা বছরে দশদিনের কাজ।

ভোট আসে যায়দীনেশ পরেশের ভাগ্যে জোটেনা বছরে দশদিনের কাজ।

111
0

পিয়া গুপ্তা, কালিয়াগঞ্জ

একশো দিন দুইশো দিনের কাজের গপ্প অনেক শুনতে পেলেও দীনেশ পরেশের ভাগ্যে জোটেনা বছরে দশদিনের কাজ।  এটাই বাস্তব সত্য।দিনমজুর দীনেশ,পরেশদের কাছে একশো অথবা দুইশো সবই শুধু হাসির খোরাক   মাত্র।        -উত্তর দিনাজপুর জেলার দিন মজুররা একশো দিন দুইশো দিনের কাজের কথাই শোনে, কিন্তু তা দিয়ে তাদের পেট ভরেনা।ভোট এলে এমন গালভরা প্রতিশ্রুতি র কথা শুনে শুনে তাদের কান পচে গেছে।এবার নাকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একশো দিনের কাজের পরিবর্তে দুইশো দিনের কাজ দেবে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীএকবারের জন্যও কি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন একশো দিনের কাজের প্রকল্পে গ্রামের প্রত্যেক দিনমজুড়েরা প্ৰকৃত পক্ষেই কত দিনের করে কাজ পেয়েছেন?মনে হয় না।স্বচ্ছ ভাবে যদি বর্তমানের একশো দিনের প্রকল্পের কাজ করানো হত তাহলে গ্রাম বাংলার দিনমজুরদের মধ্যে এই অভাবের তাড়না থাকতো না।একশো দিনের কাজ মানে প্রত্যেক দিন মজুর বছরে কম করেও একশো দিন কাজ পাবার কথা।কিন্তু সেই কাজটা কি তারা পাচ্ছে?দেখা হয়না তলিয়ে।তাহলে একশো দিনের কথা কেন বার বার এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত গর্বের সাথে বলে থাকেন?কথার সাথে কাজের মিল কোথায়?এখন আবার বলা হচ্ছে দুইশো দিনের কাজ দেওয়া হবে।গ্রাম বাংলার জব কার্ড হোল্ডাররা সবাই কি সরকার ঘোষিত একশো দিনের কাজ পেয়েছে?খোঁজ নিয়ে দেখবেন কেও পায়নি।আগে তাই একশো দিন কাজ দিন মজুরদের দিন তারপর তাদের দুইশো দিনের কাজ দিন।রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী হলফ করে বলতে পারবেন রাজ্যের একজন দিন মজুর যাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একশো দিন কাজ অনুমোদন করেছেন তাদের দিতে পেরেছেন?তিনি তার সদুত্তর দিতে পারবেন না।যারা বছরে দশদিন কাজ পায়না তাদের কাছে দুইশো দিনের এমন গাল ভরা প্রতিশ্রুতি দেবার কি এমন প্রয়োজন থাকতে পারে?প্রয়োজন একটাই থাকতে পারে সেটি হচ্ছে ভোট বৈতরণী কোন ভাবে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে পর করা।গ্রামের মানুষ এখন এ ব্যাপারে খুব সচেতন।তারা অন্য কিছু না বুঝলেও  কাজ যে তারা পায়না এটাতো হারে হারে বুঝতে পারে।।তাই দিনমজুর দীনেশ ,পরেশের মত আর সব দিন মজুরের দল এসব শুনতে ও চায়না বিশ্বাসও করেনা।গ্রামের দিন মজুরা খুব ভালো করেই বুঝে গেছে এসব তাদের জন্য নয়।তাদেরকে কাজের খোঁজ করে নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই তৈরী করে নিতে হবে।পাঁচ বছর অন্তর ভোট এলেও ভোট বাবুদের কথার কোন গুরুত্ব অন্যদের কাছে থাকলেও তাদের কাছে এসব বিলাসিতা মাত্রই।আমাদের ধারণা একশো দিনের কাজ বুঝি গ্রামের দিনমজুরা প্রত্যেকেই পেয়ে থাকে।একথা একদম  সঠিক নয়।গ্রামের পঞ্চায়েত থেকে যদিওবা জব কার্ড করে দেয় কিন্তু তারপর  সেই কার্ড দিয়ে কাজ জোগাড় করতে মাথার ঘাম পায়ে পরলেও কোন কাজ জোগাড় হয়না।আসলে গ্রামের দিনমজুরদের সবার জব করে দেবার মানেই সবার জন্য একশো দিনের কাজের বরাত নেই।সবার কার্ড হয়েছে মানেই গ্রামের দিনমজুরদের সবাইকে একশো দিনের কাজ  দেওয়া হচ্ছে তা পঞ্চায়েত থেকে প্রচার করা হয়ে থাকে।অনেকের জব কার্ড থাকলেও তা দিয়ে তাদের কোন কাজ হয়না।গ্রামপঞ্চায়েত বাবুদের যারা তল্পী বাহক হতে পারবে তাদের ভাগ্য কিছুটা হলেও সুপ্রসন্ন হতে পারে।তবে কাজ যদিওবা কয়েকদিন পায় সেখান থেকে তাদের পঞ্চায়েত সদস্যদের খুশি রাখার ব্যবস্থাও করতে হয়। ।এই হচ্ছে গ্রাম্য ভারতের প্ৰকৃত চেহারা।এখন ভোটের সময় গ্রামের হতদরিদ্র মানুষদের জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যে ভাবে ভোট প্রচারে এসে বক্তব্য রাখেন তাতে মনে হয় গ্রামের মানুষদের চেয়ে আর কেও সুখী নেই ভূভারতে।কিন্তু আসলেই কি তাই?একদম নয়।উত্তর দিনাজপুর শুধু নয় এই দৃশ্য রাজ্যের সর্বত্রই এক।গ্রামে যদি সারা বছর কাজই পায় তাহলে কোন দুঃখে ভোর হতে না হতেই একটি ভাঙা সাইকেলে ভর করে ডালা কোদাল নিয়ে দল বেঁধে শহরের উদ্দেশ্যে এসে পথের মোড়ে মোড়ে একটা কাজ পাবার অপেক্ষায় বসে থাকে।এই দৃশ্য নিত্যদিনের।।আমাদের একটা ধারণা আছে গ্রামের দিনমজুররা কিছুই বোঝেনা,আমরাই সব বুঝে থাকি।কিন্তু আমাদের চালাকিটা গ্রামের দিনমজুরে রা খুব ভালো করেই বুঝে ফেলেছে।গ্রামের একশো দিনের কাজ সবাই পায়না।গ্রামের একশো দিবের কাজ পেতে গেলে অনেক কাঠখর পড়াতে হয়।গ্রামের একশো দিনের কাজ জব কার্ড থেকেও তারা বঞ্চিত।গ্রামের একশো দিনের কাজ দীনেশ,আসারু ও পরেশদের কাছে শধু স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়।সরকার যাদের জন্য একশো দিনের কাজ দেয় তারা না পেয়ে কিছু কিছু ভাগ্যবান গ্রামেই আছে তারা এই সুযোগ পেয়ে থাকে।ফলে একশো দিনের কাজ যে উদ্দেশ্যে সরকার চালু করেছে সাফল্যের থেকে ব্যর্থতার পরিমান অনেকগুন বেশি।সরকার তথা শাসক দলের রাজনৈতিক নেতাদে উচিৎএকশো দিনের কাজকে একশো ভাগ পাবার ক্ষেতে নিশ্চিত করে গ্রামের হত দরিদ্র দিন মজুরদের গ্রামের মধ্যেই কাজ যাতে পেতে পারে  তা একশো ভাগ সুনিশ্চিত করে দিনমজুরদের মুখে হাসি ফোটানোর ব্যবস্থা করা। তপন চক্রবর্তী–কালিযাগঞ্জ–উত্তর দিনাজপুর

Loading...