বাড়ি রাজ্য ভূগর্ভস্থ জল তুলে পানীয় জলের কালোবাজারি চলছে হাওড়া জেলা জুড়ে

ভূগর্ভস্থ জল তুলে পানীয় জলের কালোবাজারি চলছে হাওড়া জেলা জুড়ে

112
0

স্বীকৃতি পাল, হাওড়া
পানীয় জল বাঁচাতে যখন কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকার সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ঠিক সেইসময় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার গ্যালন জল চুরি হয়ে যাচ্ছে হাওড়া জেলার ভূগর্ভ থেকে। কোথাও মাটির তলা থেকে হেভি পাম্প লাগিয়ে সেই জল তুলে নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও পৌরসভা সরবরাহ করা জলে বোতলে ও ডামে ভরে সেই জল বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে। হাওড়া শহরে প্রশাসনিক কার্যালয় নবান্ন থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বেই দেখা মিলবে অবৈধ পানীয় জলের কারখানা ।এছাড়াও দক্ষিণ পূর্ব রেল লাইনের বিভিন্ন স্টেশনের কাছে, হাওড়া 6 নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অনেক ছোট ছোট কম্পানির পাশাপাশি বেশ কিছু বহুজাতিক সংস্থাও ভূগর্ভস্থ জল বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে তা নাম মাত্র ফিল্টার করে বোতলজাত করে বাজারে বিক্রি করছে। আবার কেউ কেউ পুরসভার সরবরাহ জল বড় বড় ড্রামে ভরে পাড়ায় পাড়ায় বিক্রি করছে  বলেও অভিযোগ উঠেছে । ফলে হাওড়া শহরে কিংবা গ্রামে সর্বত্রই ভূগর্ভস্থ জল বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে তা বোতলবন্দী করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে দিনের পর দিন ।ফলে ভবিষ্যতে পানীয় জলের বিরাট সংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভূবিজ্ঞানী থেকে সাধারণ মানুষ ।হাওড়া পুরসভা তার 66 টি ওয়ার্ড এই পানীয় জল সরবরাহের কথা বললেও বাস্তবে চল্লিশটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পানীয় জল পৌঁছায়। বাকি ওয়ার্ডগুলোতে পানীয় জলের সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় ।কোন কোন ওয়ার্ডে হাওড়া পুরসভার পানীয় জল সরবরাহ কারী পদ্মপুকুর প্রকল্প থেকে একফোঁটাও জল পৌঁছায় না। ফলে সেখানকার মানুষকে নির্ভর করতে হয় ডিপ টিউলের উপর । কিন্তু সেই জল অনেক সময় নোংরা বেরোয় । তাই বাধ্য হয়েই বাসিন্দাদের নির্ভর করতে হয় স্থানীয় ছোট ছোট পানীয় জলের ফিল্টার করে জল বিক্রেতাদের ওপর ।আর তারা কোথাও ভূগর্ভস্থ পাম্প লাগিয়ে তুলে নিয়ে অথবা হাওড়া পুরসভার অন্য ওয়ার্ড থেকে ড্রামে করে জল ভরে নিয়ে গিয়ে তা নামমাত্র পরিশোধন করে সেই জল পাড়ায় পাড়ায় বিক্রি করে। হাওড়া শহর জুড়ে এই পানীয় জলের কালোবাজারি চলতে থাকলেও সমস্ত মানুষ জেনেও কোন সুরাহা হয়নি ।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এইসব জল প্রস্তুতকারক কারখানাগুলি আদৌ জলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্লোরিন বা জল পরিস্রুত করার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয়  পদার্থ মেশায় কিনা তা তারা জানেন না ।তা সত্ত্বেও একরকম বাধ্য হয়েই তাদেরকে সেই জল কিনে খেতে হয় । বাবুলাল মুন্সি নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেহেতু অনেক ওয়ার্ডে বিশেষ করে হাওড়া পুরসভার 45 থেকে 50 নম্বর পর্যন্ত সংযোজিত ওয়ার্ড গুলিতে  এখনো পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছায়নি সবজায়গায়, তাই বাসিন্দাদের বাধ্য হয়েই এইসব জল কিনে খেতে হয় ।আর সেই জলের চাহিদা আছে বলেই বেআইনিভাবে জল প্রস্তুতকারক কারখানাগুলি তৈরি হয়েছে যত্রতত্র । আরেক বাসিন্দা কাবেরি রুদ্র বলেন, হাওড়া পুরসভা যদি পর্যাপ্ত পানীয় জল  সরবরাহ করত তাহলে এই সমস্ত বেআইনি জল প্রস্তুতকারক কারখানাগুলির আমদানি হতো না ।পুরসভা যে জল সরবরাহ করে অনেক সময় হাওড়াতে ড্রেনের জলের মাঝখান দিয়ে পানীয় জলের পাইপ যাওয়ায় পানীয় জলের পাইপ ফুটো হয়ে তার সঙ্গে নোংরা জল মিশে যায় ।ফলে পুরসভার সরবরাহ জলেও তারা সব সময় নির্ভর করতে পারে না ।তাই বাধ্য হয়েই এদের কাছ থেকে জল কিনতে হয়।প্রশাসনিক স্তরে এ ব্যাপারে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না । হাওড়া পুরো কমিশনার বিজিন কৃষ্ণা জানিয়েছেন, হাওড়া শহরজুড়ে যে এই ধরনের বেআইনি পানীয় জল তৈরীর কারখানা তৈরি হয়েছে তা পুরসভার নজরে রয়েছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে এই ধরনের একটি অভিযোগও পুরসভায় জমা পড়েছিল। তার ভিত্তিতে পৌরনিগম ওই নির্দিষ্ট কারখানাটি বন্ধ করে দেয় ।এরপর হাওড়া পুরোনিগম এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি দল এই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে ।এবং তারা একটি সার্ভে শুরু করেছে কোথায় কোথায় এই ধরনের বেআইনি পানীয় জল প্রস্তুতকারক সংস্থা তৈরি হয়েছে ,এবং তারা কিভাবে জল নষ্ট করছে তাও খতিয়ে দেখছে পুরসভা ।এরপর এই ধরনের অবৈধ জল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Loading...