বাড়ি অন্যান্য ভাই ফোঁটায় নবদ্বীপের প্রসিদ্ধ লাল দইয়ের চাহিদা তুঙ্গে

ভাই ফোঁটায় নবদ্বীপের প্রসিদ্ধ লাল দইয়ের চাহিদা তুঙ্গে

28
0

ভাই ফোঁটায় মিষ্টি কে ছাপিয়ে “লাল দইয়ে’র চাহিদা তুঙ্গে নবদ্বীপে। দেবাশীষ কংসবণিক, নবদ্বীপ। ভাই ফোঁটা মানে হরেক রকমের মিষ্টির ছড়াছড়ি। হরেক রকম মিষ্টির পাশাপাশি থাকে অন্যান্য পদও। মিষ্টি ছাড়াও ভাই ফোঁটায় দই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। বিশেষ করে সাদা দই। ভাই বা দাদাদের কপালে ফোঁটা দিতে গেলে দিদি বা বোনেদের কাছে বিশেষ প্রয়োজনীয় পদ হল সাদা দই। ভাই ফোঁটায় অন্যান্য উপকরণের সাথে সাদা দই বা দধি থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। মিষ্টি বা সাদা দইয়ের সঙ্গে “লাল দইয়ের” চাহিদাও কম নয়। বিগত বছর থেকে শুরু হয়েছে হরেক কিসম মিষ্টির পাশাপাশি লাল বা ক্ষীর দইয়ের চাহিদা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভাই ফোঁটা উপলক্ষ্যে রকমারি মিষ্টির পাশাপাশি নবদ্বীপের বিখ্যাত  লাল বা ক্ষীর দই এর চাহিদাও তুঙ্গে। মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের যা যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চৈতন্য ভূমি নবদ্বীপের বিখ্যাত এবং অন্যতম মিষ্টান্ন হল “লাল দই”। যার নাম জগৎ জোড়া। বাংলা তো বটেই যা দেশ ছেড়ে বিদেশেও সমান ভাবে সমাদৃত। নবদ্বীপে মিষ্টির পাশাপাশি “লাল দই” অন্যতম প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন। দই বা দধি মিষ্টান্ন পরিবারের অন্যতম কুলীন সদস্য। দই সাধারনত সাদা হলেও “লাল দই” একটি স্বতন্ত্র উপাদেয় মিষ্টান্ন। নদিয়ার নবদ্বীপের “লাল দই” খুবই জনপ্রিয়। জানা যায়, আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগে নবদ্বীপের জনৈক কালিপদ মোদক, মতান্তরে কালী ঘোষ, এই দই প্রথম প্রস্তুত করেন। নবদ্বীপের দুই প্রসিদ্ধ এবং প্রাচীন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী রামকৃষ্ণ ঘোষের “মিষ্টান্ন ভবন” পাঁচু বা মিহির দাসের “লক্ষ্মী নারায়ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার”  নবদ্বীপের অন্যতম বিখ্যাত “লাল দইয়ের” দোকান হিসাবে পরিচিত। মিষ্টান্ন ভবনের অন্যতম কর্ণধার রামকৃষ্ণ ঘোষ জানান, বিগত বছরের তুনলায় এবছরও মিষ্টির পাশাপাশি “লাল দইয়ের” চাহিদা বেশি। ফলে চাহিদা অনুযায়ী যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আর এক বিখ্যাত মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী পাচু দাস জানান,”লাল দই” এর চাহিদা বছর ভর থাকে। কারণ নবদ্বীপে আগের তুলনায় পর্যটকরা বেশি আসেন। তাদের কাছে মিষ্টির তুলনায় লাল দই এর কদর অনেক বেশি। তিনি এও জানান, এই দই তৈরি করার পর দশদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। নবদ্বীপের বিখ্যাত “লাল দই” হয়ে ওঠার পিছনে কিংবদন্তি ইতিহাস জড়িয়ে আছে। নবদ্বীপের পুরাত্বাত্বিক পরিষদের শান্তি রঞ্জন দেব বলেন, “লাল দই” এর আবিষ্কর্তা নবদ্বীপ ফাঁসিতলার বাসিন্দা এবং প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক কালী ঘোষ। কালী ঘোষ এবং হরি ঘোষ দুই ভাই। তাঁরাই মূলত দই এবং ঘোল তৈরি করতেন। অল্প আঁচে মোষের দুধে অল্প অল্প জল দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে ফুটিয়ে দুধকে ঘন করতেন। অনেকক্ষণ জ্বাল দেওয়ায় সেই দুধের রঙ লালচে হয়ে যেত। তাই দিয়ে ঘোল তৈরি করতেন দুই ভাই। তাঁদের ঘোল এলাকায় লাল ঘোল নামে পরিচিত ছিল। দুধ ঘন হলেই সেটি প্রায় ক্ষীরের পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তাই অনেক সময় লাল দই কে ক্ষীর দইও বলে। এই দইয়ের আরেকটি নাম হল চাক্কু দই। এই নামের পিছনেও একটি কারণ আছে। দই কতটা ভালো সেটার বিচার হয় দই কতটা আঁটো হয়েছে তার উপর। সেটি পরীক্ষা করার জন্য দইয়ের হাঁড়ি উল্টে দিয়েও দেখা হয়। এমনকি হাঁড়ির ভিতরে চাকু বা ছুরি ঢুকিয়েও দেখা হয়। সে কারণে “লাল দই” কে চাক্কু দইও বলা হয়।

Loading...