বাড়ি ফিরে দেখা ব্যাংক ,এটিএম এর যুগে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার মৃৎ শিল্পীদের হাতের তৈরি...

ব্যাংক ,এটিএম এর যুগে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার মৃৎ শিল্পীদের হাতের তৈরি লক্ষীর ভাড়

302
0

টাকা মাটি, মাটি টাকা, রামকৃষ্ণের এই বাণী যথার্থ ভাবে কার্যকর আজকের সমাজে। মানুষ যেদিন থেকে সঞ্চয় করতে শিখেছে, সেদিন থেকেই আবিষ্কার করেছে টাকা জমানোর নানা উপায়। কখনও গাছের কোটর বা গাছের তলা, কখনও বা নিজের বিছানার নিচে ।এরপর সঞ্চয় করার সঙ্গে পরিবারের শ্রীবৃদ্ধির যোগ তৈরি হয়।
 এক সময় ছিল যখন প্রতি বৃহস্পতিবার  বাড়ির গৃহিণীর এই মাটির ভাঁরে পয়সা ফেলেন সংসারের কল্যাণ কামনা করে। ভাঁড় পূর্ণ হলে তা ভেঙে যে টাকা পাওয়া যায় তা ঠাকুরকে দেবার রীতি ছিল।  তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষির ভার ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে একদিকে যেমন খুচরো পয়সা বিলুপ্তির পথে তেমনি অন্য দিকে ব্যাংক ও  এ . টি.এমের জামানায় এখন কেউ এই লক্ষী র ভারে টাকা জমান না।  তবে আবার অনেকেই শুধু   বংশ পরম্পরা অনুসারে এই ব্যবসা করে চলছেন।
 গ্রাম গঞ্জের অনেক শিল্পীরা আজও দুটো টাকা রোজগারের জন্য এই লক্ষী ভার বা মাটির ভার বানিয়ে চলছে ন।উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ এর মুস্তাফা নগরের শিল্পি  আনন্দ পাল। তিনি  আজ বহু বছর ধরে  মাটির ভাড় বা খুঁড়ি বানান। বংশ পরম্পরায় তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত। আগে এই ব্যবসা করে তিনি সচ্ছল ভাবে সংসার চালাতেন, কিন্তু আজকাল তার এই পেশায় পেটও ঠিকমতো চলে না এটা বলাই বাহুল্য।আনন্দ  বাবুর বক্তব্যে যে, আগে মাটি বিনামূল্যে সংগ্রহ করতেন তিনি। কিন্তু এখন তা কিনতে হয় এবং তাও আবার চড়া দামে। তার উপরে তো আছে হাড়ভাঙা পরিশ্রম। এবং তার উপর লক্ষির ভাড় মানুষের কাছে এখন কম প্রয়োজনীয়। সরকার থেকেও কোন সাহায্য পাই না আমরা। বরং এখন এ টি এম ও ব্যাংকের যুগে কেউ আর মাটির ভারে  তেমন টাকা ও জমায় না ।তবুও গ্রাম বাংলায় আজ ও এই মাটির ভাড় বা লক্ষীর ভাড় এ বহু মানুষ টাকা জমিয়ে চলছেন। আনন্দ বাবু জানান তার তৈরী করা মাটির ভার রায়গঞ্জ, মালদা,সহ আজও বহু জায়গায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও লাভ তেমন হায়না তবুও মানুষ নিজেদের সখে কিংবা ঘর সাজানোর জন্যে আজও এই লক্ষী ভারে টাকা জমান।আনন্দ বাবু আরো জানান এই মৃৎ শিল্পীর প্রতিভা নষ্ট হতে চলেছে সেটা বোধহয় বলাই বাহুল্য। কারণ, তিনি আর কিছু দিন পর এই পেশা থেকে বিরত হবেন এবং তার ছেলেকে এই পেশায় যুক্ত করতে তিনি অনিচ্ছুক প্রকাশ করেন।
তাহলে কি বাংলার কুটিরশিল্প ব্যবসা থেকে এমন একটি হস্তশিল্পের করুণ পরিনতি ঘটতে চলেছে? সত্যি কি তবে অবলুপ্তির পথে এই মৃৎ শিল্প? তাঁর কথায় এটা আশ্চর্যের বিষয়, এই ভাড় শিল্প প্রায় অবলুপ্তির পথে, অথেচ কুটির শিল্পের উপর এত জোর দেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে, সেখানে এই বিষয় নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় সরকার।

Loading...