বাড়ি রাজ্য উত্তর দিনাজপুর বছর চারেক আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া মৃৎশিল্পী স্বামীর স্মৃতিকে বাচিয়ে রাখতে...

বছর চারেক আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া মৃৎশিল্পী স্বামীর স্মৃতিকে বাচিয়ে রাখতে আর্থিক অনটন সত্ত্বেও নিজেই দশভুজার মুর্তি গড়ে জীবন যুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রায়গঞ্জের মহীলা মৃৎশিল্পী অর্পিতা পাল

72
0

ইসলামপুর , ১৭ সেপ্টেম্বর ।বছর চারেক আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া মৃৎশিল্পী স্বামীর স্মৃতিকে বাচিয়ে রাখতে আর্থিক অনটন সত্ত্বেও নিজেই দশভুজার মুর্তি গড়ে জীবন যুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রায়গঞ্জের মহীলা মৃৎশিল্পী অর্পিতা পাল। প্রতিমা তৈরীর কাজে রায়গঞ্জের কাঞ্চনপল্লীর কূমোড়পাড়ার বাসিন্দা অর্পিতা দেবীর স্বামী গণেশ পালের খ্যাতি ছিল দুই দিনাজপুর জুড়ে। শুধু রায়গঞ্জ নয়, ইসলামপুর, বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর, কালিয়াগঞ্জ এমনকি মালদা জেলার বহু দুরপ্রান্ত থেকে মুর্তি গড়ার ডাক আসত। যৌবন কালে দুরদুরান্তে গিয়ে মুর্তি গড়ে আসতেন গণেশ বাবু। কিন্তু বছর কুড়ি আগে কুমোড়পাড়া লেনে নিজের বাড়ীতেই কয়েকজন কারিগরদের নিয়ে প্রতিমা তৈরীর কারখানা গড়ে তোলেন তিনি। কিন্তু নিজে হয়তো স্বল্পায়ু বুঝতে পেরেছিলেন গণেশ বাবু। তাই কারখানাতে নিজের স্ত্রীকে পাসে বসিয়ে মুর্তি গড়া হাতে কলমে শিখিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু আজ আর তিনি নেই। তবে গণেশ বাবুর অবর্তমানে তার কারখানার হাল ধরেছেন তার স্ত্রী অর্পিতা পাল। স্বামীর কাছে শেখা বিদ্যে দিয়েই স্বামীর মৃত্যুর পর চারবছর ধরে নিজেই বানিয়ে চলেছেন দশভুজার প্রতিমা। এদিন এই প্রসঙ্গে অর্পিতা দেবী বলেন, “উনি চলে গেছেন। কিন্তু আমায় তো শিখিয়ে গেছেন ওনার বিদ্যে। প্রতিমা গড়া ওনার পেশার থেকে নেশায় পরিনত হয়েছিল। তাই মুর্তি বানানো বন্ধ করিনি। যতদিন পারব এভাবেই আমার স্বামীর স্মৃতি ধরে রাখবো।” সেই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, “একাজে আমি আমার স্বামীকেই খুজে পাই। এখনো মনে হয় যেন উনি আমাকে হাত ধরে শিখিয়ে দিচ্ছেন।”
পুজোর মরশুম এলে পূর্ব স্মৃতি মনে পড়ে অর্পিতা দেবীর। ১৯৯৪ সাথে বিয়ে হয় তার। বাপের বাড়ী রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জ পালপাড়ায় হলেও স্বামীর ঘড়ে এসেই প্রতিমা তৈরীর সাথে যুক্ত হন অর্পিতা দেবী। মাত্র কয়েক বছরের দাম্পত্য জীবনের সব আনন্দ শেষ হয়ে যায় ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে মাত্র ৫৯বছর বয়সী স্বামী গণেশ পালের দেহাবসানের পর। তাদের একমাত্র ছেলে কোলকাতায় একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বিটেক করছে। কিন্তু ছেলের এই পৈতৃক পেশায় তেমন আগ্রহ নেই বলেই জানালেন অর্পিতা দেবী। তবে নিজেকে জীবনযুদ্ধে টিকিয়ে রাখতে আর্থিক সংকট সত্ত্বেও স্বামীর স্মৃতিকে আগলে রেখেছেন অর্পিতা দেবী। আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। তাই দিনরাত এক করে দেবী দশভুজার মুর্তি তৈরীতে ব্যস্ত অর্পিতা দেবী বলেন, স্বামীর রিতী মেনেই এবারেও বৈশাখ মাস থেকেই দুর্গা প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে তিনি জানান। তবে ৪৭ বৎসর বয়সী অর্পিতা দেবীর নিজের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় বলে ৯টি বড় ও ৩টি ছোট প্রতিমা তৈরীতে এবারেও বেথুয়াডহরী থেকে কারিগর এনেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে স্বামীর স্মৃতিকে ধরে রাখতে এভাবে স্ত্রীর এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শহরের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। অর্পিতা দেবীর হাতে তৈরী মৃন্ময়ী মুর্তিতে চিন্ময়ী দেবী রূপে এবারেও রায়গঞ্জ সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পুজিতা হবেন দশভুজা। এখন জেলার একমাত্র মহিলা মৃৎশিল্পীর হাতের কারুকার্য্য দর্শকদের কাছে কতটা গ্রহনযোগ্য হয় সেটাই দেখার।

Loading...