বাড়ি দেশ ‘প্রধানমন্ত্রী সহজ বিজলী হর ঘর যোজনা’

‘প্রধানমন্ত্রী সহজ বিজলী হর ঘর যোজনা’

43
0

যে কোন দেশের উন্নয়নে আস্থাব্যঞ্জক এবং ব্যয়ের দিক থেকে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ এবং বন্টনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
‘প্রধানমন্ত্রী সহজ বিজলী হর ঘর যোজনা’ (সৌভাগ্য) ২০১৭-র সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়েছিল। দেশের
প্রতিটি প্রান্তে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ। ২০১৯-এর ৩১শে মার্চের মধ্যে শহর এবং গ্রামের
যেসব বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে, নকশাল প্রভাবিত ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে কিছু বাড়িতে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যায়নি। ২০১৭-র ১১ই অক্টোবর থেকে ২০১৯- এর ৩১শে মার্চের মধ্যে ২ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৪ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সাতটি রাজ্য যারা আগে বিদ্যুতায়নে অনীহা প্রকাশ করেছিল, তারা পরবর্তীকালে সম্মত হওয়ায় ১৯ লক্ষ ৯ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছনোর ব্যবস্থা করেছে।
‘দীনদয়াল গ্রাম জ্যোতি যোজনা’র আওতায় ২০১৮-র ২৮শে এপ্রিলের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্পে ৭৫,৮৯৩ কোটি টাকা ব্যয়বরাদ্দ ধরা হয়েছিল। ৩২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ৪৩,৪৮৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো গড়ার লক্ষ্যে ১,৪৭৫টি নতুন সাব-স্টেশন চালু হয়েছে। ১,৬৫৮টি সাব-স্টেশনের মানোন্নয়ন ঘটানো হয়েছে।
৪,৯২,১৮১টি ট্রান্সফর্মার বন্টনের জন্য বসানো হয়েছে। ৩,৭১,৯৮৫ কিলোমিটার লো-ট্রান্সমিটার লাইন এবং ১,৭৭,৬৭৬ কিলোমিটার হাই-ট্রান্সমিটার লাইনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১ কোটি ২৭ লক্ষ গ্রাহকের কাছে মিটার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সুসংহত বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের (আইপিডিএস) আওতায় ২০১৪ সালে শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বন্টন ও সাব-ট্রান্সমিশন সিস্টেমের উন্নতির উদ্দেশ্যে ৩২,৬১২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় ৩৭১টি চক্রে তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর ৫৬০টি আধা-গ্রাম ও আধা-শহর অঞ্চলের জন্য ৩০ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন বসানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রক সমস্ত রাজ্যগুলিকে বর্তমান মিটারের পরিবর্তে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার বসানোর নীতি-নির্দেশিকা জারি করেছে। এর ফলে, গ্রাহকরা তাঁদের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। একটি কেন্দ্রীয় সরকারি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ইইএসএল এই স্মার্ট মিটার সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে। ইতিমধ্যেই এই কোম্পানি হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং রাজস্থানে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশে সবথেকে বেশি স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে। ঐ রাজ্যের ১১টি শহরে ৭ লক্ষ ৭৮ হাজার স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লিতে ৯ লক্ষেরও বেশি স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে।

‘উজ্জ্বল ডিসকম অ্যাশিওরেন্স যোজনা – উদয়’-এর আওতায় ২০১৫-র ২০শে নভেম্বর বিদ্যুৎ বন্টন
কোম্পানিগুলির ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে বকেয়া ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘উদয়’-এর ফলে ২৪ ঘন্টা সুলভ মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্যে দেশ জুড়ে বিদ্যুৎ এবং কয়লা ক্ষেত্রের সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই যোজনার ফলে বিহার, হরিয়ানা, রাজস্থান, জম্মু ও কাশ্মীর এবং মণিপুরে বিদ্যুৎদপ্তরের বিলের টাকা সংগ্রহের দক্ষতা ৮ থেকে ১০ শতাংশ এবং অসম, গোয়া, হিমাচল প্রদেশ ও মেঘালয়ে এই দক্ষতা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জলবিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ২০১৮-১৯ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাসে যেখানে ১০৩.৯ বিইউ বিদ্যুৎ উৎপাদন
হয়েছিল, সেখানে ২০১৯-২০ সালে ঐ সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২০.৭
বিইউ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ২০১৯-এর ১৭ই আগস্ট ভুটানের মাংদেছু বিদ্যুৎ প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি অরুণাচল প্রদেশের দিবাং-এ ২,৮৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে ১,৬০০ কোটি টাকা প্রাক্‌-বিনিয়োগ কর্মকান্ডের জন্য অনুমোদন করেছে। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের মামলা এবং স্থানীয় অসন্তোষের কারণে ২০১১ সাল থেকে অরুণাচল প্রদেশের সুবনসিড়িতে ২,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে জাতীয় জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির নিষ্পত্তি হওয়ায় এবং স্থানীয় সমস্যাগুলির সমাধান করার পর ২০১৯-এর ৩১শে জুলাই থেকে এই প্রকল্পের কাজ আবার শুরু হয়েছে।
সিকিমে ষষ্ঠ পর্যায়ে তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ আবারও শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শক্রমে জম্মু-কাশ্মীর এবং হিমাচল প্রদেশের মতো রাজ্য যেখানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, সেই এলাকার জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দেশ জুড়ে ‘ওয়ান নেশন-ওয়ান গ্রিড-ওয়ান ফ্রিকোয়েন্সি’র আওতায় ১৪,৫৪৬ কিলোমিটার ২২০ কিলো ভোল্ট এবং তার বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন আইএসটিএস ট্রান্সমিশন লাইন বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তঃআঞ্চলিক বন্টনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ৫,৭০০ মেগাওয়াট করা হয়েছে।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটে
গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলীয় এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।
ঘূর্নিঝড় বিধ্বস্ত ওড়িশায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্স্থাপনের উদ্দেশ্যে ১১ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকার সাহায্য
বিভিন্নভাবে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে দ্রাস এবং কার্গিল হয়ে লাদাখের লেহ
পর্যন্ত ২২০ কিলো ভোল্ট ট্রান্সমিশন লাইন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৯-এর তেসরা ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন
করেন। কিন্তু, পরবর্তীতে হিমবাহের কারণে কয়েকটি টাওয়ার ভেঙে পড়ায় সেই পরিষেবা ব্যাহত হয়।
বর্তমানে অবশ্য এই পরিষেবা আবারও চালু হয়েছে। কেন্দ্র গত ২৩শে অক্টোবর পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (পাওয়ার গ্রিড)-কে নবরত্নের মর্যাদা দিয়েছে।
‘হারমনি’ (প্রকাশ) পোর্টালের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির জন্য প্রয়োজনীয় কয়লার যোগান নিশ্চিত করতে ভারতীয় রেলের বিভিন্ন গুদামঘরে মজুত কয়লার পরিমাণ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। ২০১৯-এর পয়লা অক্টোবর বৈদ্যুতিক গাড়িগুলির চার্জিং সংক্রান্ত নীতিগুলির পরিবর্তন করা হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যে বিইই মডেল গ্রহণ করা হয়েছে। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পোদ্যোগ ক্ষেত্রের জন্য শক্তি
সংরক্ষণের নীতি-নির্দেশিকা ২০১৯-এর ২৩ ও ২৪শে সেপ্টেম্বর আয়োজিত জাতীয় কনক্লেভে প্রকাশিত হয়।

বাতানুকুল যন্ত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ৩০শে অক্টোবর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আগামী বছর পয়লা জানুয়ারি থেকে এই যন্ত্রগুলির নির্মাতাদের এই যন্ত্রগুলিতে তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থির রাখতে বলা হয়েছে।
বসবাসের জন্য নির্মিত বাড়িগুলিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২০১৮-র ডিসেম্বরে ‘ইকো-নিবাস সমহিতা’ চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাড়ি নির্মাণের জন্য ইকো-নিবাস পোর্টালের (www.econiwas.com) সূচনা হয়েছে।
প্রতি বছর ব্যুরো অফ এনার্জি এফিশিয়ান্সি বিদ্যালয়, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে অঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ২০১৯ সালে এই প্রতিযোগিতায় ৮৪ লক্ষ ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। বিজয়ীদের জাতীয় শক্তি সংরক্ষণ দিবস – ১৪ই ডিসেম্বর পুরস্কৃত করা হয়। এই উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৩৩টি শিল্প সংস্থাকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

২০১৯-এর এই সংক্রান্ত জাতীয় পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ৩৫৫টি সংস্থা যোগ দিয়েছিল
যারা ১,০৫,৬৬০ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। এর ফলে, ১ কোটি ৫ লক্ষ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড
নিঃসরণ কম হয়েছে।
‘উজালা’ যোজনার আওতায় উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ১ কোটির বেশি এলইডি বাল্ব,
৯৩,৯০০টি এলইডি টিউব লাইট এবং ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার পাখা বন্টন করা হয়েছে। ১ লক্ষ এলইডি
লাইটকে স্ট্রিট লাইটে ব্যবহার করা হয়েছে।
‘উজালা’ প্রকল্পের আওতায় সকলে যাতে এলইডি বাতি ব্যবহার করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ‘উন্নত জ্যোতি’
প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি ১০ লক্ষ এলইডি বাল্ব, ৭১ লক্ষ ৬১ হাজার এলইডি টিউব লাইট এবং ২৩
লক্ষ ১০ হাজার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পাখা দেশ জুড়ে বন্টন করা হয়েছে। এর ফলে, কার্বন ডাই-অক্সাইড
নিঃসরণের হার যেমন কমেছে, একইভাবে গ্রাহকদের বিদ্যুতের বিলের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। দেশ জুড়ে ১
কোটিরও বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি স্ট্রিট লাইট দেওয়া হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিকেন্দ্রিকৃত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলিকে বকেয়া বিল মেটাতে বন্টন সংস্থাগুলির সহজে ঋণ পাওয়ার লক্ষ্যে সরকার একটি
প্রকল্প চালু করেছে যেটি পয়লা আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।
সৌর এবং বায়ুশক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বন্টনে উৎসাহদানের লক্ষ্যে সরকার ইন্টার-স্টেট ট্রান্সমিশন সিস্টেম (আইএসটিএস চার্জেস অ্যান্ড লসেস) নীতি প্রণয়ন করেছে। প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রির প্রক্রিয়াটি সহজ করার লক্ষ্যে কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি পোর্টাল মন্ত্রক চালু করেছে।

Loading...