বাড়ি সম্পাদকীয় পৃথিবীতে হেরে যাবার, নিজেকে অসুখী ভাবার কারণ নেই

পৃথিবীতে হেরে যাবার, নিজেকে অসুখী ভাবার কারণ নেই

361
0
সুখ শব্দটা খুবই জটিল কিন্তু আকাক্সিক্ষত শব্দ| এটা এমন এক শব্দ, যাকে হাজারজন হাজাররকম ভাবে বলা যেতে পারে| তার জন্য অন্য কোনও বক্তব্যের প্রযোজন হয বলে মনে হয না| সব মানুষের জীবনে সুখ আসে না| তবে এটা কোনও ভগবানের দান নয যে নিজে নিজে এসে যাবে| তার জন্য প্রযোজন নিজের কিছু কর্তব্য| যা করলেই তা অনাযাসে হাতে এসে যায| আমরা তা বিশ্াস করি কযজন| জেনে রাখা ভালো, উপলব্ধি জিনিসটাই মুখ্য| আমরা কখনই ভাবি না বা এই সুখ শ্দটার প্রকৃত অর্থ খোঁজার চেষ্টা করি কি| আমরা সারাটা জীবন শুধু ছুটেই যাই এর পেছনে! পৃথিবীতে হেরে যাবার, নিজেকে অসুখী ভাবার কি কোনও কারণ রযেে|  কেউ বলবেন হ্যাঁ, কেউ বলবেন না| এই হ্যাঁ বা না-র মধ্যে দিযে নিজেকে খুঁজে নিতে হবে তার প্রকৃত অর্থ| তা খুঁজতে খুঁজতে আমরা কযেটা কারণ হযতো  খুঁজে পাবো| কিন্তু নিজেকে সুখী করার অন্য উপায আছে| আর তা করতে হলে নিজেকেই করতে হবে| বলা যায, শুধু কষ্ট করে কিছুক্ষণের জন্য নিজের চোখকে আড়াল করে চারপাশের বিষযবস্তুগুলো ভালো করে লক্ষ্য করতে হবে| কিন্তু দেখতে হবে নিজের অনুভূতির চোখ দিযে এর জন্য আবার হাসাপাতালে যেতে হবে না| একটা রিকশাওযালা বা ঠেলাওযালাকে ভাড়া করলেই হবে| এখন বলা যাক কি করতে হবে| কোনও একটা স্থানে গিযে ভাড়া মাত্র ১০ টাকা বেশি দিতে হবে| আর তাতেই বোঝা যাবে আমাদের সুখ শব্দিটি কোথায| হাতে নিযে টাকাটা গুনে যখন পাঁচটা টাকা বেশি দেখবে, তখন তার চোখের দিকে তালেই বোঝা যাবে সুখ কী জিনিস| একটা পথশিশুকে একবেলা ভরপেট খাওযাতে হবে| রাস্তার পাশে ডাস্টবিন থেকে কুড়িযে খাবার খাওযা মানব সন্তান যখন একবেলা পেটপুরে খেতে পারবে, তখন মতের্যর সব সুখ তার শুকনো মুখে ফুটে উঠবে| একজন বৃদ্ধ মানুষ যার বকবকানি সহ্য করার ভযে মানুষ তার সঙ্গে কথা বলতে চায না, কিন্তু তাকে বলুন“ তার ছোটবেলার গল্প শোনাতে| দেখবেন তিনি কি খুশী হযে তার সেই পুরানো কথাগুলো আওড়ে যাবেন| ২৫ লাখ টাকা লটারি বিজযী যে সুখ পান, তার থেকে হাজার গুন সুখ পাওযা যাবে| বৃদ্ধেরশুকনো মুখে পৃথিবীর সব সৌন্দর্য্য এসে জড়ো হবে| আমাদের কোনো মোটিভেশনাল বই পড়ার প্রযোজন পরবে না| কোনো কাউন্সেলিংযেও দরকার পড়বে না বলেই মনে করা হয| কোনওএ একটা রুগ্ন, বিচলিত বন্বুর জীবনের গল্প শুনুন| মনে ভালো থাকবে| দুবেলা ভাতের জন্য যারা লড়ে তাদের কাছে গিযে তাদেরই মেটানোর চেষ্টা করলেই সুখ এসে যাবে| আসলে আমরা বড়ই স্বার্থপর| নিজেরটা ছাড়া অন্যের কথা ভাবার সময আমরা পাই না| জীবনের কাছে হেরে যাওযার মাঝে, শেষ হযে যাওযার মাঝে প্রাপ্তির হিসাব কষতে গেলে কিছুই পাওযা যায কি| না কিছুই নয| কোনও কাজ নেই, রেজাল্ট মনের মতো হচ্ছে না, মনের মানুষ আর মনে থাকছে না, কোথাও তেমন সুযোগ পাওযাও যাচ্ছে না| পরিবার আশাহত, জীবনের আর কোনো দাম নেই এরকম ভাবার কোনও সুযোগ না দিলেই সুখ এসে যাবে| জীবন লড়াই করার জন্য| আর তা করলেই অসুখী হওযার কারণ গুলো উবে যাবে| জীবনের সমস্ত সুখগুলো কুড়াতে যারা জানেন না! প্রশ্ন ওঠে তারা কেমন মানুষ| নিজেকে ঠিক করে তুলে ধরতে পারলেই জীবনে সুখ নিযম মতো এসে যায|
Loading...