বাড়ি সম্পাদকীয় পরিবেশ দূষণ ও উষ্ণায়ন রোধে জাপান সরকার

পরিবেশ দূষণ ও উষ্ণায়ন রোধে জাপান সরকার

147
0

রবীন্দ্র কুমার শীল : এই মুহূর্তে পৃথিবীকে ধ্বংসের হাতে রক্ষা করতে ব্রতী হযেে জাপান সরকার| জাপান যেভাবে দূষণ রোধ করতে পদ্ধতি নীতি এবং কৌশল গ্রহণ করেছে তাকে বিশ্ব সেরা দূষণ বিরোধী নীতি বলা যেতে পারে| জাপানকে বলা হয ভূমিকম্পের দেশ| সেখানে ভুমিকম্প হতো প্রায সমযে আজকে জাপান ভূমিকম্প রোধ করতে পারেনি বটে| কিন্তু জাপানের মতো দেশে আর যাতে সহজেই ভূমিকম্প না হতে পারে তার জন্য সরকার দাযিত্ব গ্রহণ করেছে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করেছে| ফলে আজকে জাপানে ভূমিকম্প হতে দেখা যায না| জাপানের বৃহত্ শিল্পগুলো আর দূষণ ছড়াতে পারছে না| তার একটি মাত্র কারণ হচ্ছে সরকার এ ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ| শিল্পে সোলার বিদু্যত্ ব্যবহার করা হচ্ছে| জাপানের রাস্তা থেকে শুরু করে বাড়ি এবং শিল্প কারখানায এখন সোলার এবং শক্তিশালী ব্যাটারি চালিত বিদু্যত্ ব্যবহার করার ওপরে জোর দিযেে| সেখানকার বর্জ্য পদার্থ শোধন করার জন্য বিদু্যত পরিচালিত চুল্লি রযেে| পরমানু  চুল্লির ব্যবহার করার ওপরে জোর দেওযা হযেে| আবার পরমাণু দূষণ  মাত্রা যাদে বৃদ্ধি না পায তার জন্য নিত্যদিন ধৰে পর‌্যবেক্ষণ চলে| জাপানকে বলা যেতে  পারে দূষণ  মুক্ত একটি দেশ| তারপরে  রযেে সুইজারল্যাণ্ড| সুইজারল্যাণ্ড দেশে কোনও দূষণ মাত্রাকে বৃদ্ধি করতে পারে না| কারণ সরকার সেখানে প্রহরীর ভূমিকা পালন করে থাকে| সেখানে বৃহত্ শিল্প গড়ার অনুমতি সহজেই দেওযা হয না| সুইজারল্যাণ্ড হচ্ছে প্রাকৃত সৌন্দর‌্যের দেশ| এই দেশে সরকার ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এবং তাদের সৌন্দর‌্য বেচে অর্থ রোজগার করে| ঘড়ি ব্যবসায সুইজারল্যাণ্ড বিশ্ব সেরা| সুইস ঘুড়ি দামও প্রচুর| বিশ্বের সেরা শিল্পপতিরা তাদের অধিকাংশ অর্থ সুইস ব্যাঙ্ক রেখে দিযেে| ফলে সেখানে শিল্প গড়ার ব্যাপারে কোনও উত্সাহ দেখা যায না| এরপরে দূষণ রক্ষা করতে সাফল্য অর্জন করেছে ফ্রান্স| 
তারপরে রযেে জার্মান| ফ্রান্স যেভাবে দূষণের মোকাবিলা করতে শুরু করে দিযেে তাতে সাফল্য তারা পেযেে| আইফেল টাওযারের গাযে এক রকমের ছাতা পড়ে যাচ্ছিল যাকে বলা যেতে পারে রসাযনিক ছাতা| এই ছাতা পড়ে যাওযার ফলে আইফেল টাওযারের অস্তিত্ব খুবই বিপন্ন হচ্ছিল| টাওযারকে রক্ষা করতে ফ্রান্স তাদের দেশের ভারি শিল্প থেকে বর্জ্য পর্দাথকে দ্রুত পরিশুদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে| সঙ্গে সঙ্গে শিল্প বর্জ্য পদার্থ পরিশোধিত হওযার ফলে এখন আর টাওযারের গাযে কোনও ছাতা পড়ছে না| ফলে ফ্রান্স সরকার এখন বলতে গেলে খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে| জার্মানে অবস্থিত শিল্প দূষণ মুক্ত করতে সৱুজ বৃদ্ধির দিকে বেশি করে নজর দিযেে| জার্মানে নিযম করে প্রতি মাসেই গাছ লাগানা হয| সেই সব গাছই জার্মানকে রক্ষা করে চলেছে| বৃক্ষরোপন কর্মসূচি যাতে সঠিভাবে পালন করা হয তার জন্য সরকার সব সমযে সতর্ক থাকে| ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই রযেে ভারি শিল্প| সেখান থেকে বেশি করে দূষণ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিল জি-২০ সম্মেলনে| বিশ্বের রাষ্ট্র প্রতিনিধিরা মার্কিন সরকারকে সতর্ক করেছিল সেখানে শিল্প বেশি হওযার ফলে বিশ্বের দূষণ মাত্রা বেশি করে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে| মার্কিন সরকার চেষ্টা করেছিল এই সব শিল্প থেকে যাতে অতিরিক্ত শিল্প রসাযন বর্জন বহির্গত না হয| তার জন্য তারা একটি সারকুলার জারি করে| কিন্তু রসাযনিক বহু শিল্প কারখানা আমেরিকায রযেে যেখানে উত্পাদন শুরু করলে রসাযনিক পদার্থ বের হতেই থাকবে| সেটাকে দ্রুত পরিশোধন না করলে তার বিষাক্ত পদার্থ সরাসরি নীল সমুদ্রের জলে মিশতে শুরু করেছে| ফলে সামুদ্রিক  মাছ এবং সেখানকার সামুদ্রিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে| মার্কিন সরকার সতর্কতা অবলম্বন করা হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হযনি বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে| কিন্তু সেখানকার শিল্পপতিরা এই সব কারখানাকে পরিশুদ্ধ করতে নারাজ| তারা মনে করছে যে কারখানা পরিশোধিত করতে গেলে উত্পাদন ব্যাহত হতে পারে| বিশ্ব বাজার হাত ছাড়া হযে যাওযার সম্ভাবনা রযেে| সেই কারণে সেখানকার শিল্প পরিস্থিতিতে দূষণমাত্রাকে কমানো যাযনি| আমেরিকাকে দোষী হিসাবে উপস্থিত করে উপস্থাপিত করা হলেও দাদাগিরি করে আমেরিকার পার পেযে যাচ্ছে| কিন্তু এটা আর বেশি দিন চলবে না| বিশ্বতে দূষিত করার অপরাধে আগামি দিনে আমেরিকাকে দোষী করা সম্ভাবনা দেখা দিযেে|  এদিকে ইংল্যাণ্ড তাদের শিল্প পরিবেশকে রক্ষা করতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি| রাশিযাতে শিল্প না থাকলে সেখানে ভারি অস্ত্র নির্মাণ কারখানা রযেে| সেই সব অস্ত্র নির্মাণ কারখানা থেকে প্রতিদিন শিল্প বর্জ্য পদার্থ বের হচ্ছে এবং রাশিযার আবহাওযাকে বিষাক্ত করে দিচ্ছে| এবারে কিন্তু বিশ্বের প্রতি দেশ এখন কৃষি ব্যবস্থার ওপরে জোর দিযেে| কৃষি বিপ্লব ঘটাতে পারলেই বিশ্বকে সৱুজাযন করা সম্ভব| 
পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলা হয| এই নীল গ্রহের বযস প্রায চারশো কোটি| বিজ্ঞানীরা বলেন, যে পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব  হযেিল সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে| প্রথমে এসেছি উদ্ভিদ| তারপরে প্রাণী| তার অনেক পরে এসেছে মানুষ| মাত্র দশ হাজার বছর হলো মানুষ কৃষি কাজ শিখেছে এবং চাষবাস করছে| প্রকৃতিকে নিজের মতো করে ব্যবহার করতে শিখেছে| সেখান থেকে নিজের খাদ্যের প্রযোজন মেটাতে পারছে| শিল্প বিপ্লবের হাত ধরে মানুষ তাদের গড় আয বৃদ্ধি করে নিযেে| মানুষের গড় আযু  বৃদ্ধি হওযার ফলে জমির সংখ্যা কমেছে| আজকে পৃথিবীতে  যে পরিমাণে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে তাতে চিন্তিত পরিবেশবিদেরা| এদিকে  জমির সংখ্যা কমার ফলে বহু মানুষকে বিষাক্ত আবহাওযার মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে| এর একটি মাত্র কারণ হল মানুষ বৃদ্ধি পেলেও জমি কিন্তু বৃদ্ধি পাচ্ছে না| ফলে আজকে এই পৃথিবীকে চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে এই ভাবে ক্রমশ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে আগামি দিনে সব মানুষকে স্থান দেওযা অসম্ভব হবে| তার জন্য চলছে চন্দ্রাভিযান| মঙ্গল গ্রহ অভিযান| সেখানকার জমি যদি ব্যবহার করা সম্ভব হয এবং যানবাহন ব্যবস্থা চালু করা যায এবং সব শেষেˆ বলা যায সেখানকার পরিবেশ যদি মানুষর বসবাস করার এবং খাদ্য গ্রহণ করার মতো বা পানীয জল পাওযা সম্ভব হয তাহলে  আগামি দিনে পৃথিবীর অধিক জনসংখ্যাকে সেখানে বসবাস করার জন্য পাঠিনো সম্ভব| পৃথিবীকে  চারপাশে  যে সব গ্রহ রযেে সেখানে মানুষরে উপযোগী পরিবেশ রযেে কিনা তা নিযে চলছে অনুন্ধান| বিস্তর গবেষণা| উপগ্রহ পাঠানো থেকে শুরু করে মঙ্গলগ্রহণ অভিযান এবং চন্দ্রাভিযান চলছে|
 এদিকে প্রতি বছর ভূখণ্ডের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে দিযেে| এমনভাবে তাপ মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে তার ফলে একটি অদ্ভূত আধার নেমে আসতে চলেছে এই ধরনীর ৱুকে| মেরুপ্রান্তে বরফ গলছে, সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পেতেশুরু করেছে| জল বৃদ্ধি পাওযার ফলে ভূপৃষ্ঠে প্রতিফলন ক্ষমতা তত কমছে| ফলে পৃথিবীর তাপ ধারন ক্ষমতা বাড়ছে| সব মিলিযে ভযঙ্কর অবস্থা| পৃথিবীর ৱুক দ্রুত শুকিযে যেতে শুরু করেছে| বিশ্ব ব্যাঙ্কের ১৯৯২ সালের একটি হিসাব অনুযাযী তৃতীয বিশ্বের মোট আশিটি দেশে এক তৃতীযাংশ মানুষ তীব্র জলকˆষ্ট ভোগ করছেন| ২০২০ তে দুই তৃতীযাংশ মানুষ এই জলকষ্টে ভুগবে| এই সমস্ত তথ্য থাকা সত্ত্বেও মানুষ পরিবেশ রক্ষা করার ব্যাপারে কোনও কার‌্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি| উল্টে সংকটকে জিইযে রেখে জলকে পণ্য হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে| এইভাবে কার্বন দূষণ নিযন্ত্রণের নামে কার্বনকে ব্যবসা বাণিজ্যে পরিণত করা হযেে| বস্তুতন্ত্র রক্ষার করার নামে ইকোটু্যরিজম জাঁকিযে বসেছে| যার ফলে অনিবার‌্যভাবে পরিণত  ধ্বংস হচ্ছে অরণ্য, সমুদ্র, উপকূল| এই রকম বহু উদাহরণ রযেে যার ফলে বিশ্ব পরিবেশ ক্রমশ সঙ্কচিত হচ্ছে| মানুষˆ বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে পারছে না| নানা রকম অজানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানব সমাজ| চিকিত্সকেরা পর‌্যন্ত নাজেহাল হযে  পড়ছে| তারা এই সব রোগের  চিকিত্সা সঠিকভাবে করতে পারছে না| কোনও ওষুধও দ্রুত অবিস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না| ফলে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে| ক্যান্সারের মতো মারণ ব্যাধি বৃদ্ধি পাচ্ছে| হাসপাতালে রোগী ভর্তির জন্য আসন একেবারে ফাঁকা নেই বলা যায| চিকিত্সা ব্যবস্থা জটিল থেকে জটিলতর হযে  পড়ছে| চিকিত্সকেরা বিব্রত এই সব অজানা রোগের চিকিত্সা করতে গিযে 
এদিকে ইংল্যাণ্ডে একটি সমযে জমির উর্বরতা হারাতে শুরু করে| জাপানেও এই রকম পরিস্থিতি সম্মুখীন হযেিল| কিন্তু জাপান সেই সমস্যার সমাধান করলে ফেললেও ইংল্যাণ্ড কিন্তু এই সমস্যার সমাধান বের করতে গিযে নাজেহাল অবস্থা| কৃষি উর্বরতা হ্রাস পেতে শুরু করে সারা বিশ্ব জুড়ে| ব্রিটেন জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে অস্থি সংগ্রহ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে| ১৮২৩ সালে প্রায ১৪,৪০০ পাউণ্ড মূল্যের অস্থি আমদানি করে ইংল্যাণ্ড| ১৮৩৭ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়ায ২,৫৪,৬০০ পাউন্ড| এইভাবে ইংল্যাণ্ড জমিকে উর্বর করতে গিযে অস্থি আমদানি করতে শুরু করে| সেই সমযে কৃষকেরা এতো বেশি বেপরোযা হযে উঠেছিল যে তারা নেপোলিযনের যুদ্ধক্ষেত্রে হানা দিযে সেখানকার মাচি খুঁড়ে মৃত সেনাদের অস্থি সংগ্রহ করতে শুরু করে| ঠিক এই সময়ে ইংল্যাণ্ড সুপার ফসফেট আবিস্কার করে ফেলল| এর ফলে জমির উবরর্তা বৃদ্ধি পেল ঠিক| কিন্তু অতিরিক্ত সুফরা ফসফেট ব্যবহার করার ফলে কৃষির উত্পাদনশীলতা বজায রাখা সম্ভব হল না| সমস্যার সমাধান করতে গুযানোতে গিযে সেখান থেকে সামদ্রিক পক্ষীর বিষ্ঠা যা বিশেষভাবে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ তা আমদানি করতে শুরু করলো| গুযানোতে প্রাকৃতিক নিযমে সামুদ্রিক বিষ্ঠা পাওযার ফলে সেখানে আমেরিকা এবং ইংল্যাণ্ড রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করলো| যার হাতে গুযানোর সম্পদ দখলে কার দখলে থাকবে তারাাই শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে| লুণ্ঠনের প্রতিযোগিতায অংশ গ্রহণ করলো  ব্রিটেন এবং আমেরিকা| জমির উর্বরতা হ্রাস সংকট নিযে অচিরেই জন্ম গ্রহণ করলো সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের| 

Loading...