বাড়ি অন্যান্য পরম্পরা মেনে আজও পুজো হয় রাসমণির স্মৃতিবিজড়িত নিস্তারিণী কালী মন্দিরে

পরম্পরা মেনে আজও পুজো হয় রাসমণির স্মৃতিবিজড়িত নিস্তারিণী কালী মন্দিরে

54
0

শেওড়াফুলি(হুগলী),২৬ অক্টোবর : গঙ্গার তীরে আজও শ্যামা মায়ের আরাধনায় মেতে ওঠে হুগলী জেলার শেওড়াফুলির নিস্তারিণী কালী মন্দির। ১২৩৪ বঙ্গাব্দে বর্ধমানের পাটুলি রাজবংশের রাজা হরিশচন্দ্র রায় এই বিশাল মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। কথিত আছে রানি রাসমণি এই মন্দির এসেছিলেন এবং পুজোও দিয়েছিলেন। এখানকার কালী মায়ের মূর্তির আদলে তিনি অনুপ্রাণিত হয়ে দক্ষিণেশ্বরে মায়ের মূর্তি তৈরি করেন। 
পরম্পরা মেনে আজও এখানে পুজো করা হয়।বিভিন্ন জেলা থেকে বহু মানুষ এখানে পুজো দিতে আসেন।অন্যান্য দিনের মতোই এখানে কালী পুজোর দিন মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। লুচি, পাঁচ রকমনের ভাজা, তরকারি দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়।কালী পুজো উপলক্ষ্যে মাকে ভোগে খিচুড়ি, পোলাও  দেওয়া হয়। প্রথা মেনে আজও এখানে ছাগ বলি দেওয়া হয়। মন্দির চত্বরে ভোগ রান্নার ব্যাবস্থা রয়েছে। প্রতিদিনকার মতো কালী পুজোর দিনও  সকালে মায়ের মঙ্গল আরতি, দুপুরে চাল নৈবেদ্য দিয়ে ভোগ দেওয়া হবে। রবিবার কালী পুজো উপলক্ষ্যে বিশেষ পুজো রাত ১২টার আগেই শুরু হয়ে যাবে।হোম-যজ্ঞর পাশাপাশি হবে ছাগ বলি। সেদিন ভক্তরাও ডালা নিয়ে  সারাদিন ও সারা রাত পুজো দিতে পারবে। পুজো শেষ হতে ভোর হয়ে যাবে। বহু মানুষ এখানে উপোষ করে অঞ্জলি দেন। এখানে মায়ের হাতে কোনও খাড়া নেই রয়েছে তরোয়াল। মন্দিরের সংগঠক শুভাশিস অধিকারী জানিয়েছে,  বাজার এলাকায় মন্দির হওয়া বহু ব্যবসায়ী মন্দিরের উন্নয়নকল্পে সাহায্য করে থাকেন। কালী পুজোর  উপলক্ষ্যে দুই ২৪ পরগণা,  পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান, বীরভূম থেকে ভক্ত সমাগম হয়। মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজা হরিশচন্দ্র রায়ের বংশধর তথা রাজপরিবারের সদস্য পরমকল্যাণ রায় জানিয়েছেন, ১২৩৪ বঙ্গাব্দ (১৮২৭  খ্রিস্টাব্দে) স্বপ্নাদেশ পেয়ে সাড়াফুলি যা আজকের শেওরাফুলি নামে খ্যাত গঙ্গা তীরে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন রাজা হরিশচন্দ্র। গঙ্গা থেকে ভেসে আসা কষ্টিপাথর দিয়ে প্রতিটি প্রহরে মায়ের বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। যে ভাস্কর মায়ের মূর্তি তৈরি করেন তিনিও স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের মূর্তি গড়ার জন্য রাজার কাছে  ছুটে আসেন। রানি রাসমণি সঙ্গে এই মন্দিরের সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে  পরমকল্যাণবাবু বলেন,গঙ্গা দিয়ে বজরা করে রানি রাসমণি যাচ্ছিলেন।সেই সময় শেওরাফুলি ঘাটে তিনি এক কিশোরীকে দেখতে পান। তা দেখেই তিনি বজরা ঘাটে বাঁধার নির্দেশ দেন।ঘাটে নেমে সেই কিশোরীর সঙ্গে তিনি এই মন্দিরে আসেন। কথায় বলে সেই মন্দিরে ঢোকা মাত্র কিশোরী মিলিয়ে যায়। এই মন্দিরে রানি রাসমণি অঞ্জলি সহযোগে পুজো দেন। এখন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি মায়ের মূর্তি তৈরি করেন। 

Loading...