বাড়ি দেশ ডিব্রুগড়ে বিধ্বংসী আগুন, অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘুমন্ত দুই শিশু ও এক মহিলা-সহ পাঁচজনের...

ডিব্রুগড়ে বিধ্বংসী আগুন, অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘুমন্ত দুই শিশু ও এক মহিলা-সহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

39
0

ডিব্রুগড় (অসম), ১৯ অক্টোবর : ভয়ংকর এক অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশু, এক মহিলা-সহ পাঁচ ব্যক্তির অগ্নিদগ্ধ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্য একই পরিবারের চারজন। ঘটনা শুক্রবার রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ উজান অসমের ডিব্রুগড়ে সংঘটিত হয়েছে। হৃদয় বিদারক ঘটনার জন্য গভীর শোক ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, ডিব্রুগড়ের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি, ডিব্রুগড়ের বিধায়ক প্রশান্ত ফুকন প্রমুখ অনেকে। এদিকে নিহতদের মাথাপিছু চার লক্ষ টাকা করে অর্থসাহায্য তাঁদের নিকট আত্মীয়ের হাতে শিগগির তুলে দিতে জেলাশাসককে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।  শুক্রবার রাত তখন প্রায় দেড়টা। ডিব্ৰুগড়ের নিজ কদমণিতে জনৈক মায়া দেবীর বাড়িতে আচমকা আগুন ধরে। গোটা এলাকা তখন গভীর নিদ্রাচ্ছন্ন। ধীরে ধীরে আগুন মায়া দেবীর ঘরে বিস্তৃত হতে থাকে। ইত্যবসরে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুনের লেলিহান শিখা গোটা ঘরকে গ্রাস করে। তখনই নিদ্রাচ্ছন্ন মায়া দেবী ও ছেলে বিশাল সোনারের হুঁশ জাগে। ঘুমে ছিল বিশালের দুই ছেলে শিবু ও শঙ্কু। তাদের তুলে ঘর থেকে বেরোনোর অনেক চেষ্টা করেন বিশাল ও মায়া দেবী। কিন্তু পারেননি। এরই মধ্যে নুনু নামের তাঁদের এক গৃহপরিচারকও আগুনে আটকে পড়ে। ইত্যবসরে প্রতিবেশীরা এসে আগুনের কবল থেকে ঘরের ভিতর আটক পাঁচজনকে উদ্ধারের ব্যর্থ চেষ্টা করেন। পারেননি। চোখের সামনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন মায়া দেবী, ছেলে বিশাল সোনার, দুই নাতি শিবু ও শঙ্কু এবং গৃহপরিচারক নুনু। তবে বাড়ির কর্তা মায়া দেবীর স্বামী প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে তিনটি ইঞ্জিন নিয়ে ছুটে আসে দমকল বাহিনী। স্থানীয়দের সহায়তায় অক্লান্ত চেষ্টা করে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়্ন্ত্রণে আনে দমকল বাহিনী। ততক্ষণে মায়া দেবীর তিনটি ঘর ভস্মীভূত হয়ে যায়। আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট হয়নি। এদিকে মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে গভীর শোক ব্যক্ত করে জেলাশাসককে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী সনোয়াল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে অকুস্থলে ছুটে গেছেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার। ইতিমধ্যে আগুনে দগ্ধ পাঁচটি দেহের পিণ্ড উদ্ধার করে ডিব্রুগড়ে আসাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

Loading...