বাড়ি ভ্রমণ ট্রেনের কামরায় উত্তর ভারত ভ্রমণ

ট্রেনের কামরায় উত্তর ভারত ভ্রমণ

292
0

রাজধানী নিউ দিল্লি, উত্তরপ্রদেশের আগ্রা আর রাজস্থানের রাজধানী ও স্থাপত্যকলায় ভরপুর জয়পুর। এই তিন শহরের দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় সারাবছর ধরে ও অন্য যেকোন ¯পটের চেয়ে বেশি থাকে।আমার জার্নির রুট ছিল এরকম- কলকাতা থেকে আজমির। আজমির থেকে জয়পুর। জয়পুর থেকে শতাব্দী ট্রেনে হরিয়ানার মধ্য দিয়ে নিউ দিল্লি। এরপর মেট্ররেল দেখে দিল্লি থেকে বৃন্দাবন-মথুরা হয়ে আগ্রা। আগ্রা থেকে আবার ট্রেনে কলকাতা। কলকাতা হাওড়া থেকে বিহার,উত্তরপ্রদেশ আর রাজস্থানের বিস্তীর্ণ মাঠ পেরিয়ে যেতে হবে আজমির-আগ্রা-জয়পুর।রেললাইন ঘেঁষে বিস্তীর্ণ অনুর্বর অনাবাদি জমির বিহারের উত্তরপ্রদেশ কিংবা রাজস্থানের পথেপথে চোখে পড়বে ন্যাড়া ন্যাড়া পাহাড়। গোধুলিবেলায় দেখতে পারবেন ময়ূরের নাচ। যাওয়ার পথে বিহারের মুঘলসরাইয়ের আশেপাশে এ দৃশ্য দেখা যেতে পারে। উত্তরপ্রদেশের রেলপথ জুড়ে সন্ধ্যার ঠিক পূর্বে নীলগাই সদৃশ মোষ। অনেকে নীলগাই বলে। খাওয়া-দাওয়া আর নিত্যনৈমত্তিক কাজ ট্রেনের মধ্যেই সারতে হবে। বিহারের পাহাড় কেটে রেললাইন ও গুহার মধ্য দিয়ে ট্রেনে যেতে কম রোমাঞ্চকর লাগবে না! আর উত্তরপ্রদেশের প্রায় শেষপ্রান্তে শাহজানের প্রেম-যমুনা পার হলেই চোখে পড়বে আগ্রা ফোর্টের লাল লাল স্থাপত্য। যেন কৃষ্ণচূড়ার রঙ। লালকেল্লা বা আগ্রা ফোর্ট নামে পরিচিত। চোখ জুড়িয়ে যাবে। দেহমন পুলকিত হতে বাধ্য। শিয়ালদহ-আজমির রেললাইনের এসব স্থাপত্য আর ইতিহাস ঐতিহ্য উপভোগ আর ট্রেনের ভেতর খাবার কিংবা কফি-বিস্কুট খেতে খেতে পৌঁছে যাবেন প্রায় ৩০ ঘন্টার বিরতিহীন ট্রেনভ্রমণ শেষে স্বপ্নের আজমির শরীফে।রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর। নগরীর পিঙ্ক অংশটি পুরাতন দেয়ালঘেরা অংশে অবস্থিত। উত্তর পূর্ব অংশে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিকতার সংমিশ্রণ ঘটেছে, রাজকীয় প্রাসাদ আর মন্দিরসমূহ যুক্ত হয়েছে আধুনিক কংক্রিটের তৈরি ভবনের সাথে। আর পাহাড়-লেকের গুরুত্বপূর্ণ শহর আজমির। আজমির খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগার জন্য বিখ্যাত। ট্রেনে আজমির থেকে গোলাপি শহর জয়পুরে।উটে চলাচল আর রাজস্থানি মেয়েদের নৃত্য। আর দেশি-বিদেশি নানা বয়সি পর্যটকের ভিড়। চারিদিকে পাহাড় আর পাহাড়। ভ্যালি ওই পাশে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। স্বর্গীয় দৃশ্যের দেখা মেলে অতি পরিচিত এক শহর, যার নাম আজমির।রাজস্থানের এক পবিত্র শহর। সেখানে আরো আছে আজমির শরিফ। এই শহরটি নানা দিক থেকে পর্যটকদের কাছে ব্যাপক আকর্ষণীয় বলে বিবেচিত হয়। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগার কারণে এমনিতেই বিখ্যাত এই শহর। আজমির দেখে জয়পুরে যাত্রা। রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর। সমস্ত রাজস্থানে বায়ুতে বালুকণা ইত্যাদির আধিক্য। তাই মাস্ক পরা যেতে পারে। উট আর রাজস্থানী নৃত্য দেখা যাবে। দেশি-বিদেশি নানা বয়সি পর্যটকের ভিড়। জয়পুর শহরে দেখতে পাবেন হাওয়া মহল, জয়গড় দুর্গ, নাহাড়গড় দুর্গ, সিসোদিয়া নিকিবাগ,বিদ্যাধরজি কি বাগ, বিড়লা মন্দির, মোতি ডুংরি, যন্তর মন্তর, সিটি প্যালেস, জলমহল, অ্যালবার্ট হল মিউজিয়াম।জয়পুর থেকে শতাব্দী ট্রেনে হরিয়ানার মধ্য দিয়ে নিউ দিল্লি। দিল্লিতে পরিদর্শনযোগ্য স্থান-দিল্লিতে উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে- ইন্ডিয়া গেট, রাষ্ট্রপতি ভবন, রেড ফোর্ট (লাল কেল্লা),জামা মসজিদ,গুরুদুয়ারা বাংলা সাহেব, যন্তর মন্তর,কুতুব মিনার, বাহাই মন্দির (লোটাস মন্দির),রাজ ঘাট, পুরনো কেল্লা (ওল্ড ফোর্ট), লোধি গার্ডেন, হুমায়ূনের সমাধিসৌধ, বিড়লা মন্দির,দ্য ন্যাশনাল জুওলোজিক্যাল পার্ক,ইন্দিরা গান্ধি ন্যাশনাল সেন্টার,ন্যাশনাল সায়েন্স সেন্টার। এরপর দিল্লি-ভ্রমণ থেকে বৃন্দাবন-মথুরা হয়ে আগ্রা। উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত ঐতিহাসিক আগ্রা। এখানে আছে তাজমহল, লালকেল্লা, ফতেপুর সিক্রি, সেকেন্দ্রাবাদে মুসলিম স্থাপত্য। সবচেয়ে বড় আকর্ষনণ হচ্ছে তাজমহল।

Loading...