বাড়ি অন্যান্য টোটোতে বৃক্ষরোপণের বার্তা হারাধনবাবুর

টোটোতে বৃক্ষরোপণের বার্তা হারাধনবাবুর

52
0

হলদিয়াঃ এবার পরিবেশবান্ধব টোটোর মধ্যেই বৃক্ষরোপণের বার্তা দিয়ে চলেছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলের বৃক্ষপ্রেমী টোটো চালক হারাধন অধিকারী। ছোটবেলায় বাবাকে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগাতে দেখেছেন তিনি। এরপর ক্রমশ বড় হওয়ার সাথে সাথে গাছের প্রতি কোথাও যেন প্রেম জেগে যায় হারাধনবাবুর। স্থানীয় মহিষাদল বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের গাছ কিনে এনে নিজের বাড়িতে লাগাতে শুরু করেন তিনি। যা এখন এক বিশাল বাগানের রূপ নিয়েছে। কিন্তু গাছ লাগালেও কোথাও যেন হারাধন বাবুর মনের মধ্যে গেঁথে যায় হারানোর যন্ত্রণা। বর্তমানে যে হারে মানুষের দ্বারা বৃক্ষছেদনের ঘটনা আকছার ঘটে চলেছে তাতে হারাধন বাবুর মন পীড়া দিয়ে ওঠে। সেই থেকে হারাধনবাবু সিদ্ধান্ত নেন নিজের টোটোর মধ্যে গাছের সমাহার নিয়ে মানুষের মনের মধ্যে ফুটিয়ে তুলবেন সবুজায়নের বার্তা। এই সিদ্ধান্তে প্রথমে টোটোর যাত্রী থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে হাসি-ঠাট্টার পাত্র হতে হলেও হাল ছাড়েননি হারাধনবাবু। আর এভাবেই গত তিনবছর ধরে টোটোর মধ্যে গাছের সমাহার নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে এখন যাত্রী থেকে প্রশাসন, প্রতিবেশী থেকে পরিবার-পরিজন সবাইয়ের কাছে এখন গর্বের পাত্র হারাধনবাবু। বৃক্ষপ্রেমী হারাধনবাবু জানান,”টোটোর মধ্যে গাছ রাখার মূল কারণ হল মানুষের মধ্যে সবুজায়নের বার্তা ফুটিয়ে তোলা। গাছ নিয়ে মানুষকে যদি আমি সচেতন করতে পারি তবেই একদিন কমবে বৃক্ষচ্ছেদনের পরিমাণ। আর বাড়বে বৃক্ষরোপণের পরিমাণ।” সকাল থেকে রাত্রি যেকোনো সময়েই মহিষাদলে পা রাখা গেলে দেখা যাবে গাছের সমাহার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন হারাধনবাবু। তার এই উদ‍্যোগে খুশি যাত্রীরাও। যাত্রী স্বপন সামন্ত বলেন,”আমি প্রায়ই হারাধনবাবুর টোটোতে যাই। উনি যে এইরূপ উদ্যোগ নিয়েছেন সত্যিই আমি একজন যাত্রী হিসেবে গর্ববোধ করছি। আগামীদিনে আরও বাড়ুক একন উদ্যোগ।” মহিষাদল রাজ কলেজের উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক ডঃশুভময় দাস,”বাউলের যেমন একতারা ছাড়া চলে না তেমনই পৃথিবীর গাছ ছাড়া চলে না। আর এই গাছ নিয়েই যদি টোটোচালক হারাধনবাবু ঘুরে বেড়ান তাহলে ওনার থেকে বেশি পৃথিবীকে কেউ বুঝেছেন বলে মনে হয় না।”সবমিলিয়ে হারাধনবাবুর সবুজায়নের বার্তা এখন ছড়িয়ে পড়ছে শহরের প্রতিটি কোনায় কোনায়। আর এই বার্তায় খুশি সকলেও।

Loading...