বাড়ি রাজ্য ঝাড়গ্রামে হাতির আক্রমনে মৃত ব্যক্তি

ঝাড়গ্রামে হাতির আক্রমনে মৃত ব্যক্তি

90
0

ঝাড়্গ্রাম, ২৯ আগস্ট : পুকুরের মাছ ও জলের পাম্প পাহারা দেওয়ার সময় আবারও হাতির আক্রমনে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে ঝাড়্গ্রাম থানার সাপধরা অঞ্চলের পেটবিন্ধী গ্রামে। বনদফতর সুত্রে জানা গিয়েছে মৃত ওই ব্যক্তির নাম পীযুষ কান্তি কর (৫০)। তার বাড়ি ওই গ্রামে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জমিতে ধান চাষের জন্য পাম্প দিয়ে পুকুর থেকে জল তুলেছেন পীযুষ বাবু। তার জেরে পুকুরের জল কমে গিয়েছে। তাই যাতে মাছ চুরি না যায় তার জন্য এদিন রাতে খাটিয়া নিয়ে পুকুর পাড়ে মাছ ও জল তোলার পাম্প পাহারা দিতে গিয়েছিলেন। রাতে পুকুর পাড়ে যখন খাটিয়া নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন সেই হাতির দল এসে শুঁড়ে ধরে আছাড় মারে পীযুষ বাবুকে। পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় মানুষজনেরা পুকুর পাড়ের দিকে গিয়ে দেখেন পীযুষ বাবুর রক্তাক্ত দেহ মাটিতে পড়ে রয়েছে। মৃতদেহের পাশেই হাতির পায়ের ছাপ রয়েছে। বনদফতর ও স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন সাপধরা, পেটবিন্ধী সহ পাশাপাশি জঙ্গল এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে ১১ টি হাতির একটি দল। এদিন রাতে ওই হাতির দলটি পেটবিন্ধী এলাকায় হানা দিয়ে পীযুষ বাবুকে শুঁড়ে ধরে আছাড় মারলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ হাতি তাড়ানোর জন্য বনদফতরকে বললেও বনকর্মীরা হাতি তাড়ানোর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। প্রায় দিনেই হাতি হানা দিয়ে সবজি সহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট করছে হাতি দল। যদিও বনদফতরের দাবি হাতি গুলিকে ওখান থেকে ড্রাইভ করানোর চেষ্টা করছে বনদফতরের কর্মীরা। উল্লেখ্য গত ১৮ আগস্ট লালগড় রেঞ্জের  ডাইনটিকরী গ্রামে হাতির আক্রমনে ভাদু কালসার নামে এক বছর আট চল্লিশের এক মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার ১১ দিনের পর আবারও হাতির আক্রমনে মৃত্যু হল এক পীযুষ বাবুর। এদিকে একের পর এক হাতির আক্রমনে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে বন দফতরের কর্মীদের। এবিষয়ে ঝাড়্গ্রাম বন বিভাগের ডিএফও বাসব রাজ হোলচ্চি বলেন, ” ওই রাস্তা দিয়ে হাতি যাতায়াত করে। আর সেই রাস্তার উপরেই ছিলেন ওই ব্যক্তি। যার ফলে হাতির সামনে পড়ে যায়। তখনি হাতি শুঁড়ে তাঁকে ধরে আছাড় মারে। মৃত ব্যক্তির পরিবার সরকারি নিয়ম অনুয়ায়ী ক্ষতিপূরন পাবে।

Loading...