বাড়ি কলকাতা জিআই আদালত সাফ জানিয়ে দিল রসগোল্লা পশ্চিমবঙ্গের

জিআই আদালত সাফ জানিয়ে দিল রসগোল্লা পশ্চিমবঙ্গের

86
0

কলকাতা, ৩১ অক্টোবর : রসগোল্লা কার, এ নিয়ে  অনেক দড়ি টানাটানি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশার মধ্যে। রসগোল্লা বাংলার জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন তকমা বা জিআই পেতেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ওডিশা। তারা দাবি তুলেছিল, রসগোল্লা তাদের। বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের জিআই আদালত সাফ জানিয়ে দিল রসগোল্লা বাংলার।

ঐতিহ্যের লড়াই গড়ায় জিআই আদালত পর্যন্ত। অবশেষে মধুরেণ সমাপয়েৎ। লক্ষ্মীবারেই এল সেই সুখবর। এতে অন্য কারও কোনও অধিকার নেই। এমন মিষ্টি জয়ে আহ্লাদে আটখানা  বাঙালি । 

কলকাতার নবীনচন্দ্র দাশ হোক কিংবা নদিয়ার হারাধন ময়রার সৃষ্টি, রসগোল্লার আদর কিন্তু বাংলার ঘরে, ঘরে। বাঙালির কানে কোনও শুভ সংবাদ এলেই মিষ্টিমুখ করা একটা রেওয়াজ। আর সেই মিষ্টিমুখ মানেই তো রসগোল্লা। বাঙালির যা কিছু মাঙ্গলিক, শুভ অনুষ্ঠান সেখানে রসগোল্লার হাঁড়ি না হলে মোটে চলে না। প্রায় ১৫০ বছর ধরে বাংলায় তৈরি হচ্ছে এই গোলাকার রসে টইটম্বুর মিষ্টি।
২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর বাংলার রসগোল্লা জিআই তকমা পায়। এরপরই উঠে পড়ে লাগে ওডিশা। তাদের দাবি ছিল, রসগোল্লার আদি সৃষ্টি ওডিশাতে। বহু টালবাহানার পর এই রসগোল্লা নিয়ে জিআইও আদায় করে পড়শি রাজ্য। চলতি বছরের জুলাইয়ের ঘটনা। ‘বাংলার রসগোল্লা’ আর ‘ ওডিশা র রসগোলা’ দু’জনই পায় জিআই।
কিন্তু তাতে খুশি হয়নি ওডিশা। চেয়েছিল একচ্ছত্র অধিকার। রসগোল্লা নিয়ে বাংলা নাকি ভুল তথ্য দিয়েছে, এমন গালভরা অভিযোগ নিয়ে জিআই আদালতে যায়। ছাড়েনি বাংলাও। প্রাচীন পুঁথি, পাণ্ডুলিপি আরও বহু তথ্য, প্রমাণাদি তুলে ধরা হয় আদালতে। তাতে ওড়িশা বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। তাদের দাবি পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় জিআই আদালত। সাফ জানিয়ে দেয়, রসগোল্লা পশ্চিমবঙ্গেরই।
এরই মধ্যে আবার আগামী ১৪ নভেম্বর রসগোল্লা দিবসের অনুষ্ঠান করছে রাজ্য সরকার। মোহরকুঞ্জে চারদিন ধরে চলবে এই উৎসব। রসগোল্লা জিআই পাওয়ার দিনটি সামনে রেখে এই উৎসব। গতবারও হয়েছিল। তবে এবার একটু স্পেশাল। কারণ, এবার রসগোল্লা শুধুই বাংলার। শুধুই এ রাজ্যের।

Loading...