বাড়ি কলকাতা ‘জল ধরো জল ভরো’ নীতিতে জোর দিচ্ছে পুরসভা

‘জল ধরো জল ভরো’ নীতিতে জোর দিচ্ছে পুরসভা

104
0

কলকাতা,২৬ জুন : জলের অপচয় ঠেকাতে ‘জল ধরো জল ভরো’ নীতিতে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা । অযথা লাইট, ফ্যান চালিয়ে রাখলে বিদ্যুতের বিল বাড়ে । কিন্তু, কল খুলে রাখলে তো আর তা হয় না । কল খুললেই  জল । কিন্তু, সেই জলের জন্য কোনও টাকা লাগে না । ফলে বিনা পয়সার জল অকারণে জলে যায় । তাই জলের দেদার  অপচয় ভাবাচ্ছে কলকাতা পুরসভাকে । কলকাতায় এখনও বাড়িতে বাড়িতে কল খুললেই জল। পানীয় জলের জন্য সরকারকে টাকা দিতে হয় না । বিনা পয়সায় পাওয়া এই পরিশ্রুত জলের অপচয়ও হয় দেদার । যা বন্ধ না করলে কলকাতাও কিন্তু আগামী দিনে চেন্নাই হয়ে যেতে পারে । খাওয়ার জলের অভাবে চোখের জল ফেলতে হতে পারে । নীতি আয়োগের রিপোর্ট বলছে, আগামী ১৫ মাসের মধ্যে দেশের ২১টি শহরে প্রবল জলসংকটে পড়তে চলেছেন ১২ কোটির বেশি মানুষ । আর ২০৩০-এ এই দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ খাওয়ার জলটুকুও পাবেন না । শুধু এই গ্রীষ্ম নয়, জলের অপচয় বন্ধ না করলে অদূর ভবিষ্যতে প্রবল খরার মধ্যে পড়তে হতে পারে বলে সাবধানতা জারি করেছে মহারাষ্ট্রের জল সরবরাহ দফতর । বিশেষজ্ঞরা বলছেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাকি হবে জলের কারণেই । যে ভাবে গোটা বিশ্বে পানীয় জলের জন্য হাহাকার বাড়ছে, তাতে বিশেষজ্ঞদের এই আশঙ্কা যে একেবারেই অমূলক নয়, তা স্পষ্ট ।কলকাতা শহরের জনসংখ্যা এখন প্রায় ৪৫ লক্ষ । এছাড়া প্রতিদিন ১৫ লক্ষ লোক বাইরে থেকে কলকাতায় যাওয়া আসা করেন । সেই হিসেবে প্রায় ৬০ লক্ষ লোক শহরের পানীয় জল পান করেন । জাতীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে জনপ্রতি ১৩৫ লিটার জল লাগে । প্রায় আড়াই লক্ষ বাড়িতে জলের সংযোগ দিয়েছে পুরসভা । কিন্তু দেখা গিয়েছে, অনেক বাড়িতেই জনপ্রতি ২০০ লিটারেরও বেশি জল ব্যবহার করা হয় । যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বলেই মনে করছেন কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারেরা । বাড়তি জলের ব্যবহার অপচয়েরই সামিল বলে মনে করেন তাঁরা । তাঁদের ধারণা, ওই ধরনের অপচয় বন্ধ করতে পারলে আরও ৫ কোটি ৬০ লক্ষ লিটার জল বাঁচানো সম্ভব হবে ।কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দৈনিক ১৫৪ কোটি ৮১ লক্ষ লিটার জল তৈরি হয় কলকাতায় । লিকেজ, কল খোলা থাকা ইত্যাদি কারণে অপচয় হয় ৩৬ কোটি ৬৪ লক্ষ লিটার । যা তৈরি হওয়া মোট পানীয় জলের প্রায় সাড়ে ২৩ শতাংশ । পুরসভার জল সরবরাহ দফতরেরই দেওয়া হিসেব অনুসারে যে পরিমাণ জল প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে, তা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১১ লক্ষ টাকা । অর্থাৎ, মাসে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার জল অপচয় হচ্ছে । এভাবেই তা চলছে বছরের পর বছর ।পুরসভার প্রশাসনিক কর্তাদের অনেকেই মনে করেন, এর মূল কারণ নজরদারির অভাব । শহরে প্রায় ২০ হাজারের মতো স্ট্যান্ড কল রয়েছে । ওই ধরনের অনেক কলেই অযথা জল পড়ে যায় । পুরসভা থেকে প্রতিদিন গাড়ি করে বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করা হয় । ওয়েলিংটন স্কোয়ারে মাটির নীচে পুরসভার যে জলাধার রয়েছে, সেখান থেকে পাম্পের সাহায্যে জল তুলে গাড়িতে ভরা হয় । এমনও দেখা গেছে, নীচে জলের গাড়ি নেই, অথচ বড় কল থেকে ক্রমাগত জল মাটিতে পড়ছে । আবার অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি থেকে জল উপচে ভেসে যাচ্ছে চাপরাশ । এ ছাড়া পাইপ ফেটে জল পড়ে যাওয়ার ঘটনার তো অন্ত নেই । তা চলেছেই অধিকাংশ এলাকায় । পুরসভার অন্দরেই অভিযোগ, টানা তিন চার দিন পাইপ লিকেজ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা নজরে আসছে না । ফলে অপচয় বেড়েই চলেছে ।বর্তমানে কলকাতা শহরে যে জল সরবরাহ হয়, তা মূলত পলতা, উত্তর কলকাতায় গঙ্গাপাড়ে মায়ের ঘাট, দক্ষিণে গার্ডেনরিচে গঙ্গা থেকে নিয়ে পরিস্রুত করা হয় । বর্তমানে কলকাতা পুরসভা উচ্চচাপে ভোর ৫ টা ‌৩০ থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত জল সরবরাহ করে । তারপর দুপুরে বিকেল ৩ টে ৩০ থেকে ৫টা পর্যন্ত নিম্নচাপে । বিকেল ৫ টা ‌৩০ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মধ্যচাপে জল সরবরাহ করে কলকাতা পুরসভা।

Loading...