বাড়ি কলকাতা জয়েন্টে পরীক্ষায় আবেদনবৃদ্ধির আর্জি খারিজ পর্ষদের

জয়েন্টে পরীক্ষায় আবেদনবৃদ্ধির আর্জি খারিজ পর্ষদের

40
0

কলকাতা, ৩০ নভেম্বর : জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে বেসরকারি কলেজগুলোর আবেদনে সায় দিল না পর্ষদ। গতবারের চেয়ে এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে আগামী বছরের রাজ্য জয়েন্টে আবেদনকারীর সংখ্যা। 

উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০২০ সালে এই পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ৮৯ হাজার প্রার্থী। গতবারের চেয়ে যা প্রায় ২৫ হাজারের মতো কম। তবে এবার ভিন রাজ্য ছাড়াও চারজন বিদেশ থেকে আবেদন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এটি ইতিবাচক বলেই মনে করছেন বোর্ডের কর্তারা। 

জয়েন্টে অনলাইনে আবেদনের সময় উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩ নভেম্বর। বেসরকারি কলেজগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রোফেশনাল অ্যাকাডেমিক ইন্সটিট্যুশনের সভাপতি তরণজিৎ সিং জানান, “আমরা দিন দুই আগে পর্ষদের অফিসে গিয়ে এই মেয়াদবৃদ্ধির আবেদন করি। সদস্যদের মতে, এত আসন ফাঁকা থাকলে প্রতিষ্ঠান চালানো দায় হয়ে উঠবে। তাই আর্জি ছিল এই তারিখ আরও বাড়ানো হোক। কিন্তু নানা অসুবিধা হতে পারে ভেবে পর্ষদ এই অনুমতি দেয়নি।”

 এবার এত কম সংখ্যক আবেদনকে সেভাবে আমল দিতে চাইছে না রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। এর রেজিষ্ট্রার দিব্যেন্দু কর জানান, “আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর যথেষ্ঠ যুক্তি দেখছি না।“ পর্ষদের চেয়ারম্যান মলয়েন্দু সাহার বক্তব্য, সর্বভারতীয় জয়েন্টে আবেদনের সংখ্যাও কমেছে। তবে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা সবাই পরীক্ষা দেবেন বলে আমাদের আশা। 

জয়েন্ট বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি। কিন্তু পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লক্ষের কিছু বেশি। ২০১৯ সালে আবেদনকারীর সংখ্যা কিছুটা কমে হয় ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৯১২। পরীক্ষা দিয়েছিলেন প্রায় ৮১ হাজার ছাত্রছাত্রী। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যার নিরিখে গতবার রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। তবে এবার আবেদনকারীর সংখ্যাই এক লক্ষের নীচে নেমে যাওয়ায়,শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় কতজন বসবেন, তার দিকে তাকিয়ে সব মহলই। 

 জয়েন্ট চেয়ারম্যানের বক্তব্য, আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল কীভাবে এখানকার ছাত্রছাত্রীদের অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া আটকানো যায়। এবার পরীক্ষা এগিয়ে দিয়ে সেটা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাছাড়া এবার যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই সিরিয়াস ছেলেমেয়ে। এঁরা পরীক্ষা দেবেন।

 কেন এত কম আবেদন জমা পড়ল এবার? প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈকত মৈত্র বলেন, এমন প্রবণতা এখন সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে। বাজারে এখন অনেক অন্য রকম কোর্স এসে গিয়েছে। ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি। ফলে কী করে তাড়াতাড়ি পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাবেন, সব পড়ুয়ারা সেই দিকটাই দেখছেন। তাই এই সব পাঠ্যক্রমের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। এটাই হয়তো আগামীদিনের একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়াবে।অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, কেন কম আবেদন হল, তা পর্যালোচনা না করে কিছু বলা ঠিক হবে না। 

প্রসঙ্গত, আগামী বছর প্রায় আড়াই মাস এগিয়ে এসেছে রাজ্য জয়েন্ট। ২ ফেব্রুয়ারি হবে সেই পরীক্ষা। বোর্ডের মতে, পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর কাউন্সেলিংও যদি দ্রুত এবং আরও বেশি সরলীকরণ করে করা যায়, তাহলে আরও বেশি আসন ভরবে। ভিন রাজ্যের নামী বেসরকারি কলেজগুলি যে সময় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে, তার আগেই এখানে সেই প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলতে চাইছে রাজ্য জয়েন্ট বোর্ড।

Loading...