বাড়ি রাজ্য উত্তর দিনাজপুর জমিদারি প্রথা না থাকলেও নিষ্টার সাথে দুর্গা পূজা করে চলেছেন...

জমিদারি প্রথা না থাকলেও নিষ্টার সাথে দুর্গা পূজা করে চলেছেন ইটাহার চুড়ামনের তৎকালীন জমিদার মোহনী মোহন রায় চৌধুরীর বংশধর

53
0

ইসলামপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর ।জমিদারি প্রথা বর্তমানে না থাকলেও নিয়ম নিষ্টার সাথে দুর্গা পূজার আয়োজন করে চলেছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার  ইটাহার চুড়ামনের তৎকালীন জমিদার মোহনী মোহন রায় চৌধুরীর বংশধর। উল্লেখ্য তৎকালীন ইটাহার থানার চুড়ামনের জমিদার মোহনী মোহন রায় চৌধুরীর আমলে জমিদারি অট্টালিকাতে ধুমধাম করে মা দুর্গার পূজার আয়োজন করা হত। মূলত মহানন্দা নদীর ধারেই এই রাজ্য বিস্তার লাভ করে কারন এই নদী দিয়ে ব্যবসা বানিজ্যের আমদানি রপ্তানি হত। এই রাজবংশের পূজাকে কেন্দ্র করে আগে মহিষ বলি সহ যাত্রা পালা আসর সহ বিশাল মেলা বসত। কিন্তু বর্তমানে আর বলি বন্ধ করেছেন বংশধরেরা। তবে ধীরে ধীরে জমিদারী প্রথা শেষের দিকে ও জমিদার না থাকার কারনে পূজার আয়োজনো ম্লান হয়ে এসেছে কিন্তু নিয়ম নিষ্টার সাথে দুর্গা পূজার আয়োজন করে চলেছেন আভাব এর মধ্যেও। মোহনী মোহন রায় চৌধুরীর বংশধর চৌদ্দ পুরুষ ধরে তার বংশধর পূজার আয়োজন করে চলেছে, তবে জমিদারের সেই অট্টালিকা নেই সবি ভেঙ্গে গুরে জঙ্গলের আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে কালের অপেক্ষেয় জঙ্গলের ফাঁক দিয়েই উঁকি দিচ্ছে জমিদারির ধংশাবশেষ। নেই জমিদারি তবে দীর্ঘ দিন যাবৎ ধরে ভাঙ্গা ফুটো মন্দিরে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হলেও গত বছর ধরে মায়ের নতুন মন্ডব তৈরী করেছে রায় চৌধুরীর বংশধর জিবনাথ রায় রায় চৌধুরী ও তার ছেলে কৌশিক রায় চৌধুরী। কর্ম ব্যাস্ততায় কৌশিক রাজ্যের বাইরে থাকলেও মাঝে মধ্যে বাড়িতে না আসলেও বছরে বাড়ির পূজার আগে বাড়িতে প্রতিবছর আসেন। এই পূজার সময় বংশ ধরের আত্মিয়রা যারা বাইরে থাকে সবাই বাড়ি ফিরে পূজোর কাজে হাত লাগান। রায় চৌধুরীর বংশের পুত্র বধূ তথা কৌশিক রায় চৌধুরীর মা কৃষ্ণারায় চৌধুরী বলেন, বর্তমানে জমিদারি নেই তবে নিয়ম নিষ্টার সাথে পূজার আয়োজন করা হয়। শশুর মশায়ের কাছে শুনে ছিলাম আগে ধূমধাম করে পূজার আয়োজন করা হত। যাত্রা পালা,মহিষ বলি সহ বিরাট মেলা বসত তবে এখন আর সেসব না থাকলেও দশমীতে ছোট আকারে মেলা বসে। তবে জমিদারের বংশধরের আত্বীয় স্বজন কর্মসূত্রে বাইরে থাকলেও পূজার সময়ে সকলে আসে। বর্তমানে আমরাই বসবাস করি। এক সময়ে পূজার আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল আর্থিক অবস্হা খারাপ হওযার কারনে। তবে গ্রাম বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আর্থিক অবস্থ্যা খারাপের মধ্যেও পূজার আয়োজন করা হত। তবে বর্তমানে গ্রামের বাসিন্দাদের আর্থিক সহযোগিতা না নিলেও সব ধরনের সহযোগিতার হাত বারিয়ে দেয় তারা। অতি কষ্টে মায়ের মন্দির তৈরী করেছে ছেলে কৌশিক। তবে আগের জমিদারি রীতি মতন ধুমধাম করে পূজার আয়োজন না হলেও এখন আনন্দ সহিত নিয়ম নিষ্টার সাথে জমিদারি দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবারো সেই মতো পূজার আয়োজন চলছে। ফলে পরিবার সহ এলাকার সাধারন মানুষ আনন্দ মুখর এখন চুরামোন গ্রামে।

Loading...