বাড়ি রাজ্য জগদ্ধাত্রী পুজোয় দুদিন নবমী, বাড়তি পাওনায় খুশি চন্দননগর

জগদ্ধাত্রী পুজোয় দুদিন নবমী, বাড়তি পাওনায় খুশি চন্দননগর

43
0

 হুগলী,৪ নভেম্বর : বেঁচে থাকার কঠিন লড়াইয়ে মানুষের জীবন যখন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত, পুজো উৎসব সেই ক্লান্তি কে মুছে দিয়ে আবার নতুন উদ্যম যোগায়। তাই এই  আমেজ যত বেশীক্ষন ধরে রাখা যায় মানুষ তার জন্য সবসময়  চেষ্টা করে। তাই দূর্গা পুজো কালী পুজো মিটে গেলেও এই রাজ্যেরই এক প্রান্তে এখন মানুষের ঢল। তিথি অনুযায়ী চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় এবার নবমী দুদিন তাই একটু বাড়তি পাওনা উৎসব প্রিয় সেই সব মানুষদের কাছে। রবিবাসরীয় সপ্তমীতে তাই জনসমুদ্র ঢেউ খেলেছে তিন শহরের অলিগলিতে। আর আলো ঝলমল শহরের আলোয় স্নান করে একের পর এক থিমের পুজো পরখ করেছেন মানুষজন। 
চন্দননগরের উত্তরাঞ্চল বিবির হাটের সন্তানসংঘের মাঠে এবারের থিম  মানুষের প্রয়োজনে ফোর জি ফাইভ জির ব্যবহারে পাখি কুল কিভাবে বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সারা মন্ডপের চারপাশে ডি টি এইচ এর এ্যন্টেনা তার সাথে মোবাইল টাওয়ার এর নেটওয়ার্ক এর ফলে আকাশ কিভাবে ঢেকে গিয়েছে তার ছবি তুলে ধরা হয়েছে। আর তার প্রভাবে কিভাবে দিনের পর দিন তিলে তিলে পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে চড়াই,শালিক ঘুঘু,পায়রা থেকে বাবুই টুনটুনি তারও নিখুত ছবি তুলে ধরেছেন সন্তান সংঘের পুজো উদ্যোক্তারা। ৭৬ তম বর্ষে পালপাড়ার এবারের থিম শৈশব। শিশু মনে বই খাতা থেকে খেলার সামগ্রী কিভাবে যায়গা করে থাকে তার সাথে বর্তমানের স্মার্টফোন টেলিভিশন কতটা সেই যায়গা দখল করে নিয়েছে তার বর্ননাই পালপাড়ার মন্ডপের আনাচে কানাচে।চন্দননগরে এবার যে কটি বারোয়ারীর জুবিলী বর্ষ রয়েছে তার মধ্যে সকলের নজর কেড়েছে হেলা পুকুর ধার।  স্বর্নজ্জ্বল বর্ষে পঞ্চাশ কেজি  সোনায় মা জগদ্ধাত্রী কে সাজিয়েছেন এখানকার উদ্যোক্তারা। মন মাতানো চারদিক খোলা মন্ডপে অপূর্ব এবং নিখুত শিল্পকলা আর তার সাথে এক মনরম পরিবেশ এক কথায় অনবদ্য। এবছের জগদ্ধাত্রী পুজোয়  এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী মানুষ হেলাপুকুরধারে। গোপালবাগের এবারের পুজোর থিম আবেগে আবেশে আভিযাত্যের ঠাকুরদালান। ফ্লাট কালচার এর যুগে যখন প্রায় বিলুপ্ত পুরোনো বাড়ী থেকে ঠাকুর দালান তখন সেই স্মৃতিকে আবার ও উস্কে দিয়েছেন এখানকার উদ্যোক্তারা। সেই দালানে মা জগদ্ধাত্রী র পুজোয় এসে মনে হতেই পারে পুরানো সেই দিনের কথা।  সপ্তমীর সারা রাত জনপ্লাবনে স্নান করার পর অষ্টমীতে যে জন জোয়ার আছড়ে পড়বে তিন শহরে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।  তাই দিনের আলো নিভতেই যখন একে একে জ্বলে উঠবে এল ই ডি বাল্বের বিশাল বিশাল গেট গুলো তখন এই শহর হয়ে উঠবে মায়াবী।

Loading...