বাড়ি অন্যান্য “চোখে ভাসে রঘুনাথগঞ্জের সেই পুজো“ : বাসব চৌধুরী

“চোখে ভাসে রঘুনাথগঞ্জের সেই পুজো“ : বাসব চৌধুরী

36
0

কলকাতা, ৩ অক্টোবর :  “পুজো বলতে আমার চোখে ভেসে ওঠে বাংলার একটা গন্ডগ্রাম। যেখানে আমার জন্ম হয়েছে, শৈশব কেটেছে।“ বললেন শিক্ষাবিদ তথা পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসব চৌধুরী। জানালেন, ওখানে এখনও আমাদের বাড়িতে পুজো হয়। দেড়শ বছর ধরে চলছে ওটি। 

বাসববাবুর কথায়, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বহরমপুর থেকে ফারাক্কা যেতে গেলে পড়বে সেই মূর্শিদাবাদের গ্রাম। মোড়গ্রাম থেকে ৫ মাইল দূরে উমোরপুরের কাছে রঘুনাথগঞ্জে সেই গাঁয়ের নাম বেলোরিয়া। ঠাকুর্দার বাবা নবাবী আমলে ‘চৌধুরী‘ উপাধি পান। ঠাকুর্দা জগদীন্দ্রনাথ চৌধুরী ছিলেন অভিজাত, সংস্কৃতিপ্রবণ, গান্ধীবাদী জমিদার। দাদাঠাকুরের স্নেহধন্য। অভিনয় করতেন আবার স্বাধীনতা সংগ্রহে অংশ নিয়ে জেল খেটেছিলেন। তাই এলাকায় ওই বাড়ির পুজো চিহ্ণিত হয়ে গেল বাবুদের পুজো’ বলে। বুকের মধ্যে আগলে রাখতেন ওই পুজো। 
বাবা দু’করি লাল চৌধুরি ছিলেন আইনের পেশায়, জেলা জজ। তিনিও ছিলেন ওই পুজোর পরম ভক্ত। ক্লাশ টেন পর্যন্ত ওখানেই থেকেছি। আমরা ২ ভাই ১ বোন। বাবারা ছিলেন ৯ ভাই ১ বোন। সব মিলিয়ে যৌথ পরিবারের শরিকরা পুজোয় কত হইহই করতাম। এর পর বড়রা একে একে অন্য লোকে চলে গেলেন। ছোটরা বড় হয়ে  সবাই কোথায় কোথায় ছড়িয়ে গেল। ২০১৪-তে বাবাও চলে গেলেন। যেন রঘুনাথপুরের বাড়ির পুজোর সঙ্গে যোগসূত্র ছিন্ন হয়ে গেল। এক বছর অন্তর ওই পুজোর দায়িত্ব পড়ে আমাদের ওপর। ছোটকাকা দেখাশোনা করেন। প্র্যাকটিক্যাল নানা অসুবিধায় আর পুজো চালাতে পারছি না। আমাদেরও আর বাড়ির ওই দুর্গাপুজোয় যাওয়া হয় না। মাঝেমধ্যে কালীপুজোয় যাওয়ার চেষ্টা করি। নানা ভাবে ওই পুজোর দায়িত্ব স্থানীয় মন্দির বা গোষ্ঠীকে হস্তান্তরের চেষ্টা করেছি। পারিনি। এখনও ওখানে সেই পুজোয় ঢাকের তালে বোধন, সন্ধিপুজো, পাঁঠাবলী— সবই হয়। ছেলেমেয়ে বড় হয়ে গিয়েছে। ব্যস্ততা ওদের চরমে। আমারও আর যাওয়া হয়ে ওঠে না। স্মৃতির ঝাঁপি থেকে উঁকি মারে ছেলেবেলার সেই পুজোর অনুভূতি। 

Loading...