বাড়ি রাজ্য মালদা চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে নার্সিংহোমে ভাঙচুর

চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে নার্সিংহোমে ভাঙচুর

56
0

মালদা , ৩১ অক্টোবর।   চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে এক মাসের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে মালদা শহরের একটি নার্সিংহোমে ভাঙচুর এবং সড়ক অবরোধে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো।  এই ঘটনায় ওই নার্সিংহোমের কর্তব্যরত এক নার্সকেও বেধড়ক মারধর করে বলে মৃত শিশুর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদা শহরের মকদমপুর এলাকার ওই নার্সিংহোমের সামনে ইংরেজবাজার পুরসভার সড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্দ  মৃত শিশুর পরিবারের লোকেরা।  এমনকি ভাঙচুর করা হয় ওই নার্সিংহোমের বেশ কয়েকটি অফিস ঘর।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে পৌঁছায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। পরে পুলিশি মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এই ঘটনায় মৃত শিশুর পরিবার ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ উভয়ই পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

নার্সিংহোম সূত্রে জানা গিয়েছে,  বুধবার রাতে শ্বাসকষ্ট জনিত  সমস্যায়  ভর্তি হয় এক মাসের শিশু মাহিরা রহমান। ওই শিশুর বাবা পেশায় ব্যবসায়ী  মাসিদুর রহমান। মা সাবনম খাতুন ।তাদের বাড়ি ইংরেজবাজার থানার যদুপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কমলাবাড়ী এলাকায় । বুধবার রাত ৮ টা নাগাদ ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে ভর্তি করার পর নিউ নেটাল কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসা শুরু করে। 

এদিকে মৃত শিশুর বাবা মাসিদুর রহমানের অভিযোগ, রাতে আমার এক মাসের ছেলের শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছিল মনে করে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করি। চিকিৎসার পর নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয় ছেলে সুস্থ আছে। কিন্তু নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ আমার স্ত্রীকে সন্তানের পাশে থাকতে দেয় নি। এরপর রাত তিনটে নাগাদ আমাদের ফোন করে জানানো হয় সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে আমার সন্তান কেন মারা গেল তার কোনো সদুত্তর নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ দিতে পারে নি। আমাদের ধারণা শিশু মৃত্যুর ঘটনার পিছনে ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের চিকিৎসার গাফিলতি রয়েছে।  এরপরেই এদিন সকাল থেকে আত্মীয়-স্বজনেরা ওই নার্সিংহোম সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। পথ অবরোধ করেছে। কিন্তু কোন ভাঙচুর করা হয় নি।

মৃত শিশুর মা সাবনম খাতুন বলেন, আমার এক মাসের সদ্যোজাত সন্তান অসুস্থ হয়ে ভর্তি থাকলো। অথচ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ আমাকে ছেলের কাছে থাকার ব্যবস্থা করে দিলো না। ছেলের চিকিৎসার জন্য ওকে আলাদা ঘরে রেখে আমাদের বাইরে করে দেওয়া হয়েছিল। রাতে  ছেলে সুস্থ রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন। এরপর ভোররাতে বলা হয় ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে নার্সিংহোমের চিকিৎসার গাফিলতি রয়েছে। কারণ, যে ঘরে আমার সন্তানকে রাখা হয়েছিল। সেই ঘরের সিসিটিভির ফুটেজ আমরা দেখতে চেয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দেখাতে চাই নি। এতেই আত্মীয় পরিজনেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এদিকে ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে,  শিশুমৃত্যুর একটা অভিযোগ তুলে এদিন নার্সিংহোমের দুটি  কাউন্টার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মারধর করা হয়েছে নার্সিংহোমের একজন নার্সকে। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মীকেও হেনস্থা করা হয়েছে।

ওই নার্সিংহোমের দায়িত্বে থাকা এক চিকিৎসক ডাঃ এস.এন সেন শর্মা জানিয়েছেন,  এই ঘটনার পিছনে চিকিৎসার কোনো গাফিলতি নেই। বুধবার রাত দশটার সময় ওই শিশুটিকে তার মা বুকের দুধ খাইয়ে ছিলেন। এরপর ওই শিশুটিকে নিউনেটাল কেয়ার ইউনিটে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। পরে শিশুটি মারা যায় । যদিও শিশুটির শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভাল ছিলো না । তবে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে শ্বাসনালীতে দুধ আটকে এই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। 

পুলিশ জানিয়েছে , মৃত শিশুর পরিবারের লোকেরা নার্সিংহোম সংলগ্ন ইংরেজবাজার পুরসভার সড়ক অবরোধ করে রাখেন । আধঘন্টা ধরে চলে অবরোধ । এরপর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শহরের একটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে বিক্ষোভ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।  যদিও এব্যাপারে দুই পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Loading...