বাড়ি অন্যান্য “এখন নববর্ষে আনন্দ গিয়েছে কমে, বেড়ে গিয়েছে উল্লাস” : রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়

“এখন নববর্ষে আনন্দ গিয়েছে কমে, বেড়ে গিয়েছে উল্লাস” : রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়

39
0

কলকাতা, ১৫ এপ্রিল : নববর্ষে মনে পড়ে গ্রামের আচার্যমশাইয়ের কথা। যেন রবীন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতিতে পড়া শ্রীকন্ঠবাবু— “পাকা আমটির মত”। ছেলেবেলায় দেখা ১ বৈশাখের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বললেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, বর্ষীয়ান অধ্যাপক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। এখন বয়স ৭৯। 
রবিরঞ্জনবাবুর কথায়, “আমার জন্ম আরামবাগ মহকুমার সালেপুর গ্রামে। ১ বৈশাখ ছেলেবেলায় দেখতাম প্রতিবেশীরা তো বটেই, দূর থেকেও অনেকে গরুর গাড়ি চড়ে ঠাকুর্দা নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে প্রণাম করতে আসছেন। গোটা তল্লাটে তিনি ছিলেন প্রথম স্নাতক। আমাদের পরিবার গোটা এলাকায় ছিল প্রথম ইংরেজি-জানা পরিবার। 
আমাদের যৌথ পরিবারে ছোটরা নতুন জামাকাপড় পড়ে বাংলা নববর্ষের সকালে বড়দের প্রণাম করতাম। ঠাকুমা আসরে গল্প শোনাতেন। তাঁর কাছে কেউ আবৃত্তি করতাম। বোনেরা গান করত। মা-কাকীমারা আর পাঁচটা দিনের চেয়ে একটু বেশি রান্না করতেন। দুপুরে আসতেন গ্রামের আচার্য অমৃতলাল ভট্টাচার্য। কৌতুকরসের অধিকারী, ওই যে বললাম রবীন্দ্রনাথের শ্রীকন্ঠবাবুর মত। পঞ্জিকা পড়ে শোনাতেন নতুন বছর কেমন যাবে। কোন মাসের কী ফল, চাষ, বৃষ্টি— এ সব। সন্ধ্যায় সেজকাকার সঙ্গে যেতাম দোকানে হালখাতা করতে। 
এখন কতটা বদলিয়েছে ছেলেবেলার সেই নববর্ষ? বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক উচ্চশিক্ষা-সহ রাজ্য বিধানসভার তিনটি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য রবিরঞ্জনবাবুর কথায়, “ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রামগুলি এখন আর নেই। শহুরে আধুনিকতা, ডিজে, বিলিতি মদ গ্রামের সেই সনাতন পরিবেশ বদলে দিয়েছে। এখন নববর্ষে আনন্দ গিয়েছে কমে, বেড়ে গিয়েছে উল্লাস।”

Loading...