বাড়ি রাজ্য মালদা আজও প্রাচীন প্রথা মেনে কালীপুজো করে আসছেন শেফালী বিবি

আজও প্রাচীন প্রথা মেনে কালীপুজো করে আসছেন শেফালী বিবি

48
0

মালদা,  ২৩ অক্টোবর।  আজও প্রাচীন প্রথা মেনে কালীপুজো করে আসছেন শেফালী বিবি। ৬৫ বছর বয়সী ওই মুসলিম ধর্মপ্রাণ শেফালী বিবির আয়োজিত কালীপুজো  এখন সমাজের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ে দিয়েছে। এই  কালীপুজোকে কেন্দ্র করে বসে বিশাল মেলা।  চলে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

গত ৩৫ বছর ধরে হবিবপুর থানার মধ্যমকেন্দুয়া গ্রামে শেফালী বিবির কালীপুজোয় কোন খামতি রাখেন নি। তাঁর বক্তব্য, একসময় কালিমাতার স্বপ্নাদেশে পুজো করে জটিল অসুখ থেকে জীবন ফিরে  পেয়েছি। দারিদ্রতা সাথে থাকলেও, সুখে রয়েছেন সাবালক দুই ছেলেকে নিয়ে। তারা দিনমজুরি করে ঠিকই। কিন্তু কালী মাতার আশীর্বাদে সংসারে অন্ন ও আশ্রয়ের অভাব নেই। 

শেফালী বিবি বলেন,  মা কারো একার নয়। উনি সকলের । এই মায়ের জন্যই তো বেঁচে আছি।  এখন বয়সের ভারে খুব একটা ছুটোছুটি করতে পারি না। তবু মায়ের পুজো বলে কথা। তাই পূজায় কোন খামতি রাখি না।

হবিবপুর থানার বুলবুলচণ্ডী গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মধ্যমকেন্দুয়া গ্রাম। রেলব্রিজের পাশেই শেফালিদেবীর বাড়ি। তার বাড়ির পাশেই কালীমন্দির। সেটি শেফালি বিবির পুজো উপলক্ষে পরবর্তীতে গ্রামবাসীরা তৈরি করেন। শেফালিদেবীর স্বামী আফসার শেখ দীর্ঘদিন আগে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। তার  দুই ছেলে পিন্টু ও সিন্টু শেখ, পেশায় শ্রমিক। বয়স হয়েছে।

শেফালি বিবি বলেন, “৩৫ বছর আগে আমার কঠিন অসুখ হয়েছিল। রোগ সারছিল না। ভেবেছিলাম, এবার অসুখেই মারা যাব। একদিন কালীমায়ের স্বপ্নাদেশ পাই। আমাকে মায়ের পুজো করতে বলা হয়েছিল। আমার তখন পুজোর নিয়ম—কানুন জানা ছিল না। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছ থেকে পুজোর আয়োজন করার জন্য সাহায্য চেয়েছিলাম। তখন থেকেই পুজো করে চলেছি।  এবারও প্রতিমা তৈরি থেকে প্রস্তুতির যাবতীয় কাজ শেফালিদেবীকে সামনে রেখেই স্থানীয়রা করছেন।

চাঁদা সংগ্রহ থেকে পুজোর আয়োজন পাড়া-প্রতিবেশীদের নেই করছেন শেফালী বিবি।একটানা ৩৫ বছর ধরে কালীপুজোর তদারকি করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের এই মহিলা। তাঁর কালীপুজো এখন সর্বজনীনরূপ পেয়ে গিয়েছে। বরাবরই এই কালীপুজোয় মেতে ওঠেন হবিবপুরের মধ্যমকেন্দুয়ার মানুষজন। পুজো উপলক্ষ্যে শেফালি বিবির বাড়ি ও কালীমন্দির ঘিরে মেলা বসে।  বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের ভীড়ে শেফালি বিবির এই কালীপুজো হয়ে ওঠেছে সম্প্রীতির উৎসব। 

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, শেফালি বিবির কালী ভীষণ জাগ্রত। পুজোর সময় অনেকে দেবী মায়ের জন্য  সোনা, চাঁদির অলঙ্কার দানও করেন। বর্তমানে হবিবপুরের মধ্যম কেন্দুয়া গ্রামের শেফালী বিবির আয়োজিত এই কালীপূজা এখন সম্প্রীতির নজির গড়ে দিয়েছে । শেফালী বিবির গ্রামবাসীদের সহযোগিতা নিয়ে কালিমাতার পুজো ধুমধাম করে করে আছসেন। যা দেখতে বহু ভক্তেরা ভিড় জমান ওই কালিমাতার মন্দিরে।

Loading...