বাড়ি দেশ আগরতলার উজ্জয়ন্ত প্যালেস-এর সামনে মহারাজা বীরবিক্রমের মূর্তি স্থাপনের দাবি

আগরতলার উজ্জয়ন্ত প্যালেস-এর সামনে মহারাজা বীরবিক্রমের মূর্তি স্থাপনের দাবি

74
0

আগরতলা, ২৭ আগস্ট : রাজ্যের বর্তমান সরকার স্বাধীন ত্রিপুরার শেষ মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের স্বপ্ন পূরণের জন্য অনেক কাজ করছে। সেই সঙ্গে ত্রিপুরার মহারাজাকে তার যোগ্য মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করছে নানা কাজের মধ্য দিয়ে। রাজ্যের সাবেক সরকারগুলি মহান এই ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কোনও চিন্তা ভাবনা করেনি, এমনকি তাঁকে যোগ্য সম্মান জানানোরও প্রয়োজন বোধ করেনি। এই অভিমত রাজপরিবারের সদস্য তথা ত্রিপুরা সরকারের অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা অরুণ দেববর্মার। তবে রাজপ্রাসাদ উজ্জয়ন্ত প্যালেস-এর সামনে মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের কোনও মূর্তি নেই বলে অরুণ দেববর্মা আক্ষেপ ব্যক্ত করেছেন। বলেন, উজ্জয়ন্ত প্যালেসের সামনে প্রবেশপথের দুদিকে মহান দুই স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসু ও মাস্টারদা সূর্য সেনের মূর্তি রয়েছে।
অরুণ দেববর্মার মতে, একসময় উজ্জয়ন্ত প্যালেস ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা ভবন ছিল। এই বিষয়টি মাথায় রেখে এই দুই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। এখন যেহেতু বিধানসভা ভবন উজ্জয়ন্ত প্যালেস থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাই এই দুই মনীষীর মূর্তিও সম্মানের সঙ্গে এখান থেকে সরিয়ে বর্তমান বিধানসভা ভবনের সামনে স্থানান্তর করে উজ্জয়ন্ত প্যালেসের সামনে একপাশে আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের একটি মুর্তি স্থাপন করার দাবি জানান তিনি। সেইসঙ্গে অপর পাশে উজ্জয়ন্ত প্যালেসের স্থপতি মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্যের মূর্তি স্থাপনের আবেদনও জানান অরুণবাবু। 

তিনি তাঁর এই ভাবনাগুলি নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে সর্বসাধারণের মধ্যে তুলে ধরে এ-বিষয়ে জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন। তাঁর অভিমত, এই ভাবনা রাজ্যে নানা স্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এবং একদিন সরকার নিশ্চয়ই এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে।
শুধু অরুণ দেববর্মাই নন, এই দাবি রাজ্যের অনেকের। এই বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ককবরক সংস্কৃতি জগতের নব প্রজন্মের দুই যুবক রবীন দেববর্মা এবং শৈলেন কলইয়ের সঙ্গে। তাঁরা ককবরক সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে ককবরক ভাষায় গান-সহ তথ্যচিত্র নির্মাণ করছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, উজ্জয়ন্ত প্যালেস-এর সামনে মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের মূর্তি স্থাপন একান্ত জরুরি। কলেজ ছাত্রী পাইকরই দেববর্মা, স্বপ্না দেববর্মাদেরও একই মত।
মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্যকে নিয়ে শুধুমাত্র জনজাতি অংশের মানুষের মধ্যে যে আবেগ রয়েছে তা নয়। রাজপরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি তাপস দে-র অভিমত, এখানে যেহেতু দুই মনীষীর মূর্তি রয়েছে, তাই মূর্তিগুলি সরানো ঠিক হবে না। তাছাড়া উজ্জয়ন্ত প্যালেস-এর মূল গেটের সামনে আরও একটি মূর্তি বসালে জায়গাটি আর খোলামেলা থাকবে না। মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের মূর্তি অন্য কোথাও বসানো যেতে পারে। তবে তাঁর দাবি, রাজ্যের পাঠ্যপুস্তকে যদি মহারাজা বীরবিক্রম-সহ ত্রিপুরার রাজন্য ইতিহাস সংযুক্ত করা হয় তবেই আসল অর্থে তাঁদের সম্মান জানানো হবে এবং নবপ্রজন্ম তাঁদের কথা জানতে পারবে।ত্রিপুরায় বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার আসার পর আগরতলা বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে মহারাজা বীরবিক্রমের নামে করা হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরের সামনে মহারাজার ৭ ফুট উঁচু মূর্তির আভরণ উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে। গত বছর থেকে তাঁর জন্মদিন পালন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব নিজে বীরবিক্রমের জীবনী নিয়ে বই লিখেছেন।

Loading...