বাড়ি রাজ্য অম্বুবাচীর শেষ দিনে বিধবাদের আহার ও বস্ত্র প্রদান কাউন্সিলরের

অম্বুবাচীর শেষ দিনে বিধবাদের আহার ও বস্ত্র প্রদান কাউন্সিলরের

110
0

। দেবাশিষ কংশবণিক, রানাঘাট।

অম্বুবাচী শেষে  হিন্দু বিধবা মেয়েদের  গঙ্গা স্নান করিয়ে এনে আহারের ব্যবস্থা করে তাদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিলেন নদীয়ার রানাঘাট পুরসভার এক নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শঙ্কর অধিকারী । রানাঘাট থেকে বেশ কিছুটা দূরের গঙ্গায় নিয়ে গিয়ে তিনশ কুড়ি জন বিধবাকে বুধবার অম্বুবাচী শেষে গঙ্গা স্নান করিয়ে আনেন । শুধু তাই নয়, গঙ্গা স্নান করিয়ে আনার পর অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধা সহকারে তাদের প্রণাম করে বিধবাদের পা  ধুইয়ে  মুছিয়ে  দেন । এরপর ওই বিধবাদের সহ আরও বেশ কয়েকজন বিধবাদের  দুপুরে খাওয়ানো হয় । শেষে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়  নতুন বস্ত্র ।  অম্বুবাচী উপলক্ষে  হিন্দু বিধবাদের  গঙ্গা স্নান করিয়ে  আনার পর  আহারের ব্যবস্থা করে তাদের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়ার   এমন উদ্যোগে   কাউন্সিলার শঙ্কর অধিকারীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন অনেকেই ।হিন্দু বিধবারা অনেকেই এই অম্বুবাচী ব্রত পালন করে থাকেন  । অম্বুবাচী শেষ হলে তারা গঙ্গা স্নান করে অম্বুবাচী ব্রত ভঙ্গ করেন ।  রানাঘাটের সড়ক পাড়ার বাসিন্দা এমন অনেক বিধবা মায়েরা এবছর অম্বুবাচী পালন করেছিলেন । যদিও  গঙ্গা স্নান করতে হলে  তাদের হয় যেতে হবে পায়রাডাঙ্গার মুকুন্দনগর ঘাটে  বা ফুলিয়ার বয়রার ঘাটে । কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে অনেকেরই একা একা তা সম্ভব হয়ে ওঠে না । যদিও এবার তা সম্ভব হয়েছে এমন অনেক বিধবা মায়েরই । সড়ক পাড়াসহ রানাঘাটের অনেক এলাকার এমন তিনশো কুড়ি জন বিধবাকে গাড়ি করে গঙ্গা স্নান করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মুকুন্দনগর ঘাটে । এরপর ওই  ঘাটে তাদের স্নান করিয়ে  আবার গাড়ি করে নিয়ে আসা হয় সড়কপাড়ার নতুন জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে ।  এরপর তাদের পা মুছে দিয়ে  জগন্নাথ মন্দিরে বসিয়ে প্রসাদ বিতরণ করা হয় ।  শেষে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র ।  অভিনব এই  উদ্যোগ প্রসঙ্গে  কাউন্সিলার শঙ্কর অধিকারী  অবশ্য স্পষ্টই জানিয়েছেন,’  আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি, শুধুমাত্র আমার দীর্ঘদিনের একটা মনের ইচ্ছা পূরনের  জন্য। অনেকদিন ধরেই দেখে আসছি,  অনেক ছেলেই বিধবা মায়েদের ঠিকমত দেখভাল করেন না । তাদের ন্যূনতম ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসেন না । আমার কাছে এরকম অনেক অভিযোগও আসে । আর তাই, অম্বুবাচী শেষে   বিধবা মায়েদের গঙ্গায় নিয়ে গিয়ে  স্নান করিয়ে এনেছি । তিনশ কুড়ি জন বিধবা মা গিয়েছিলেন স্নান করতে ।  শারীরিক অক্ষমতার কারণে যেতে পারেননি আরও অনেকেই ।  আমি সবাইকেই  পা ধুয়ে মুছে দিয়েছি । তাদের সেবার ব্যবস্থা করে আমার সাধ্যমত তাদের হাতে তুলে দিয়েছে নতুন বস্ত্র ।  বিধবা মায়েরা আমাকে আশীর্বাদ করেছেন ।  আশা করব, আমাকে দেখে উৎসাহিত হয়ে অনেকেই বিধবা মায়েদের তাদের যোগ্য সম্মান দেবেন, ভক্তি-শ্রদ্ধা করবেন ।  অনেক ছেলেরাই এটা দেখে উৎসাহিত হবে বলে আমার ধারণা । ‘ ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়  সহ অনেকেই ।  পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন,’   কাউন্সিলার শঙ্কর অধিকারী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অবশ্যই   প্রশংসার যোগ্য ।’

Loading...