বাড়ি আন্তর্জাতিক অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহার : শৃঙ্খলমুক্ত হলেন কাশ্মীরিরা, ভারতের কাছে রক্তের ঋণী বাংলাদেশের...

অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহার : শৃঙ্খলমুক্ত হলেন কাশ্মীরিরা, ভারতের কাছে রক্তের ঋণী বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় প্রধান জি এম কাদের

173
0

ঢাকা, ৩১ আগস্ট : জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তান। কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে কোনঠাসা করতে বদ্ধপরিকর ইমরান খান সরকার। কিন্তু, ভারতকে কোনঠাসা করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানই রীতিমতো চাপে রয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুতে অবশেষে ভারতের সঙ্গে ‘শর্তসাপেক্ষে’ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতেও প্রস্তুত হয়েছে পাকিস্তান| যদিও বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের মতে, কাশ্মীর ইস্যু ভারতের আভ্যন্তরীন বিষয়। এবার জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার নিয়ে অত্যন্ত খুশি ব্যক্ত করলেন বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় প্রধান তথা প্রাক্তন বাণিজ্য মন্ত্রী জি এম কাদের। বহুভাষী সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্থান সমাচার-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জি এম কাদের জানিয়েছেন, অবশেষে শৃঙ্খলমুক্ত হলেন কাশ্মীরিরা।
ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় পর্টির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী, সংসদে বিরোধী দলের প্রধান গোলাম মুহাম্মদ (জি এম) কাদের। তাঁর কথায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক রক্তের। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত শুধু সমর্থন বা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে নয়, সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। এতে ভারতের অনেক রক্ত ক্ষয় হয়েছে। সে কারণে আমরা ভারতের কাছে রক্তের ঋণে ঋণী। কিন্তু, বর্তমানে কিছু মানুষ রাজনৈতিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে বণিজ্য বৈষম্য-সহ নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে পাকিস্তানী ধ্যানধারণায় ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে শুধু সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নয়, দু’দেশের মধ্যে পিপল্ টু পিপল্ সম্পর্ক আরও বাড়াতে পারলে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলুপ্তি, তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিল ও বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বৈষম্য নিয়ে হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতকার দেন জিএম কাদের। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন কিশোর সরকার।  হিন্দুস্থান সমাচার : কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন ?কাদের : পাক-ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে ৭২ বছর কেটে গিয়েছে, এতদিন ভারতের সঙ্গে থাকতে পারলে এখন কী হল যে, ভারত থেকে কাশ্মীরকে আলাদা করতে হবে। কাশ্মীরে পর্যটন ছাড়া কিছুই নেই। অর্থনৈতিক দিক থেকে এককভাবে চলার ক্ষমতা কাশ্মীরের নেই। এই প্রদেশটাকে হয় পাকিস্তান বা ভারত কারও সঙ্গে থাকতে হবে। আর পাকিস্তানের অর্থনীতির যে অবস্থা তাতে তাদের নিজেরই তো চলার অবস্থা নেই। সেখানে কাশ্মীরীদের অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সাহায্য করার অবস্থা পাকিস্তানের আছে কি ? কাশ্মীরীরা স্বাধীন হলে দেশ চালাবে কীভাবে? আমার মনে হয়, ভারত ৩৭০ তুলে দিয়ে কাশ্মীরীদের শৃঙ্খল মুক্ত করেছে। কাশ্মীরে এখন বড় ধরনের বিনিয়োগ হবে। সাধারণ মানুষ ভালোভাবে বাঁচতে পারবেন। যেহেতু ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক খারাপ তাই পাকিস্তান এটাকে একটি ইস্যু তৈরি করতে চাইছে।
হিন্দুস্থান সমাচার : বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বৈষম্যকে কী নজরে দেখছেন ?কাদের : বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বৈষম্য নিয়ে ভারত বিরোধীরা রাজনীতি করছেন। মূলত আমাদের প্রয়োজনেই আমরা ভারত থেকে মালামাল আনি। পিয়াজ, রশুন,আদা, চাল, ডাল, গরমমশলা-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যখন যা দরকার আমরা তা আমদানি করি। এলসি খোলার তিনদিনে মধ্যে আমার দেশে তা পৌঁচ্ছে যায়। মেশিনারিজ-সহ অন্যান্য যেসব জিনিস আনি, তাও আমার প্রয়োজনে। ভারত থেকে যে কম দামে এবং অল্প সময়ে মেশিনারিজ আনি তা বিশ্বের অন্য কোনও দেশ থেকে আনা সম্ভব নয়। এখন মুক্তবাজার অর্থনীতি, কম দামে কম সময়ে যেখান থেকে যে মালামাল দরকার ব্যবসায়ীরা তা আমদানি করবেন। সে হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য বৈষম্য রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমেরিকায় যায় তার চেয়ে বাংলাদেশে আমদানি কম হয়। কারণ, আমেরিকা থেকে একটি মেশিনারিজ আনতে হলে অনেক মূল্য দিতে হবে। এছাড়া কমপক্ষে ছয় মাস আগে এলসি করতে হবে। একজন ইঞ্জিনিয়ার এনে তা ফিটিং করতে অনেক অর্থ দিতে হবে। এর চেয়ে কম দামে, কম সময়ে আমরা ভারত থেকে আনতে পারব। আর ফিটিং করার জন্য ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারকে এত বেশি টাকা দিতে হবে না। যে কারণে বাংলাদেশের সাথে ভারতে বাণিজ্য বৈষম্য থাকাটা স্বাভাবিক। এটা দোষের কিছু না।
হিন্দুস্থান সমাচার : ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশর বাণিজ্য বৈষম্য কমাতে আপনার প্রস্তাবনা কাদের : আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য বৈষম্য কমাতে ভারত আন্তরিক। আমি বাণিজ্যমন্ত্রী থাকার সময় বাংলাদেশ থেকে একশ’রও বেশি পণ্য আমদানি শুল্ক মুক্ত করেছে ভারত। বাংলাদেশ থেকে এখন বহু পণ্য ভারতে রফতানি হচ্ছে। আশা রাখি, পুরোপুরিভাবে ট্রানজিট বা ট্রানশিপমেন্ট চালু হলে বাণিজ্য বৈষম্য অনেক কমে আসবে। তবে বাণিজ্য বৈষম্য আরো কমাতে ভারত বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে।    
হিন্দুস্থান সমাচার : চোরাচালান বন্ধে কী করণীয়?কাদের : শুধু কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চোরাচালান বন্ধ করা যাবে না। দুই দেশের মধ্যে যখন যেটার চাহিদা বৈধভাবে আমদানি না করা হলে সেটা চোরাচালান হবেই। তবে এটা (চোরাচালান) বন্ধে দুই দেশের মধ্যে যখন যেটার বেশি প্রয়োজন সেটার শুল্ক কমানো যেতে পারে। এছাড়া বর্ডার হাট আরও বাড়নো দরকার। আমি বণিজ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকে বর্ডার হাট চালু হয়। এ নিয়েও অনেকে অনেক রাজনীতি করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের বর্ডার হাটগুলোতে বাংলাদেশের ক্রেতারা বেশি ক্রয় করে। পূর্বাঞ্চলের বর্ডারহাটে আবার ভারতে সাতরাজ্যের মানুষেরা বেশি কেনাকাটা করে। এনিয়েও বাংলাদেশে অনেকে রাজনীতি করে।          
হিন্দুস্থান সমাচার : ভারতের তাৎক্ষণিক তিন তালাক রুখতে আইনের ব্যাপারে মতামত কী?কাদের : ইসলামে তিন তালাকের বিধান থাকলেও এখন এটা চলে না। আমার বড়ভাই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এটা বহু আগেই বাতিল করেছিলেন। শধু তাই নয়, ইসলামে চারটি বিবাহ জায়েজ করলেও প্রথম স্ত্রীর মতামত ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধে আইন করা হয়েছিল। এটা ইসলামের সঙ্গে খাপ খায় না। তবে বাংলাদেশের মুসলিক সমাজ ধর্মভিরু হলেও ধর্মান্ধ নন। একই সঙ্গে যেমন নামাজ পড়ে রোজা রাখেন, তেমনই  আবার যাত্রা-সিনেমাও দেখেন। একটু উদারমনা ইসলামিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। যে কারণে এ আইন কার্যকর করা সম্ভব হয়েছিল। ভারত সরকারের এটা (তিন তালাক) একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে আমি মনে করি।

Loading...